• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ২৩ জিলহজ ১৪৪০

এক সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ১২৮ শতাংশ

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শনিবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৯

image

পুঁজিবাজার নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিতের পরিবর্তে আ হ ম মুস্তফা কামালের নাম ঘোষণা আসার দিন ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বাড়ে ৯৭ পয়েন্ট। নতুন অর্থমন্ত্রীর শপথ নেয়ার পরের কার্যদিবসে সূচক বেড়েছে ১১৭ পয়েন্ট, যা গত দশ মাসের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ উত্থান। সূচকের বড় উত্থানের সঙ্গে লেনদেন পৌঁছে গেছে হাজার কোটি টাকার ঘরে। ফলে পুঁজিবাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরে এসেছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ায় বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ও লেনদেন দুটোই বেড়েছে। ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ১২৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৪ হাজার ৯২৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। তবে এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ২ হাজার ১৫১ কোটি টাকার। সেই হিসাবে আলোচ্য সপ্তাহে লেনদেন বেড়েছে ২ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা বা ১২৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ। বিনিয়োগকারীরা নতুন অর্থমন্ত্রীকে পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচকভাবে দেখছেন। গত এক সপ্তাহে মতিঝিলের ব্যাংক-পুঁজিবাজার পাড়ার বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজ ঘুরে দেখা গেছে অর্থমন্ত্রীকে ঘিরেই ছিল আলোচনার বিষয় বস্তু। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বলছেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দায়িত্ব থাকা অবস্থায় পুঁজিবাজার নিয়ে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করেন। তিনি কখনো পুঁজিবাজারকে ‘জুয়া খেলা’ আবার কখনো ‘ফটকা বাজার’ বলেও অভিহিত করেন। অর্থমন্ত্রীর এমন ‘বেফাঁস কথা’র কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজারের ওপর। ফলে বিনিয়োগকারীদের বেশির ভাগই আবুল মাল আবদুল মুহিতের ওপর নাখোশ ছিলেন।

তাদের মতে, নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল পুঁজিবাজারে অভিজ্ঞ। কথাবার্তাতেও সংযত। পুঁজিবাজার সম্পর্কেও তার যথেষ্ট জ্ঞান রয়েছে। আগের অর্থমন্ত্রীর মতো তিনি বাজার নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করবেন না। এ কারণে নতুন অর্থমন্ত্রীর প্রতি বিনিয়োগকারীদের এক ধরনের আস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এরই বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে বর্তমান পুঁজিবাজারে। পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে যে উত্থান দেখা দিয়েছে তা খুবই ভালো লক্ষণ এবং প্রত্যাশিত ছিল। বাজারে এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য তেমন কোন সতর্কতা নেই তবে বিচক্ষণতার সঙ্গে বিনিয়োগ করতে হবে। কোন কোম্পানিতে বিয়োগের ক্ষেত্রে সেই কোম্পানির সার্বিক তথ্য পর্যালোচনা করে ভালো দরে শেয়ার কিনতে হবে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৮ সালের শুরুর দিকে পুঁজিবাজারে মূল্যসূচকে তেজিভাব দেখা যায়। তবে লেনদেনের গতি ছিল কম। আর বছরটির প্রথম চার মাস পার হতেই লেনদেনের পাশাপাশি মূল্য সূচকেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। নির্বাচনের বছর হওয়ায় সেই নেতিবাচক প্রবণতা বছরের প্রায় সময়জুড়ে অব্যাহত থাকে। তবে নির্বাচনের আগের সপ্তাহে হঠাৎ করেই টানা ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। কিন্তু লেনদেনের গতি ছিল কম। নির্বাচনের পরের কার্যদিবসেই উত্থান দেখা যায় মূল্যসূচকে। তার পরের কার্যদিবসে সূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি গতি আসে লেনদেনেও। ফলে নির্বাচনের পর প্রথম ছয় কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে ৩৮৫ পয়েন্ট। এ সময়ে ৭৫ দশমিক ২২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ডিবিএ’র সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, রাজনৈতিক হানাহানি ছাড়াই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াতে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা বেড়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী নতুনভাবে আবার পুঁজিবাজারে ফিরে আসছে। এটা পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক। ভালো কোম্পানি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বাড়ছে তাই সূচক বাড়ছে । তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ডিএসইর প্রধান সূচক ৬ হাজারে ছিল। বর্তমানে যে সূচক বেড়েছে সেটা প্রত্যাশিত। ঝুঁকি কমানোর জন্য ভালো কোম্পানির দরকার। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে ভালো দরে শেয়ার কিনতে।

সমাপ্ত সপ্তাহে ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৮৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির লেনদেন হয়েছে ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। ‘এন’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। ‘জেড’ ক্যাটাগরির লেনদেন হয়েছে ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ডিএসই ব্রড ইনডেক্স বা ডিএসইএক্স সূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ বা ২০৬.৮৩ পয়েন্ট। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসই৩০ সূচক বেড়েছে ৩.৫৯ শতাংশ বা ৬৯ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট। অপরদিকে, শরীয়াহ বা ডিএসইএস সূচক বেড়েছে ৩.৭২ শতাংশ বা ৪৭ দশমিক ৩০ পয়েন্টে।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩৪৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৬১টি কোম্পানির। আর দর কমেছে ৭৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৭টির। আর লেনদেন হয়নি ২টি কোম্পানির শেয়ার। এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সেচেঞ্জ (সিএসই) লেনদেন হয়েছে ২৬৫ কোটি টাকার শেয়ার। সার্বিক সূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ২৯৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২১২টি কোম্পানির। দর কমেছে ৭৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৪টির।