• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

দেশীয় এনজিওর দাবি

আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো বাণিজ্যিক সংগঠনে পরিণত হয়েছে

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৪ জুলাই ২০১৯

আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো বাণিজ্যিক সংগঠনে পরিণত হয়েছে। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে স্থানীয়করণের মাধ্যমে সুশীল সমাজ শক্তিশালীকরণ ‘জাতিসংঘ এর অঙ্গসংস্থা এবং আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোকে বাংলাদেশে মনিটরিংসহ কলাকৌশলগত সহায়তায় সীমাবদ্ধ রাখার দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ সিএসও ও এনজিও সমন্বয় প্রক্রিয়া নামের সংগঠন এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মোস্তফা কামাল আকন্দের সঞ্চালনায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক ফেরদৌস আরা রুমি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিস ইন বাংলাদেশ (এডাব) এর পরিচালক একেএম জসীম, ঢাকা বিভাগের বিডি সিএসও প্রসেস এর সমন্বয়কারী মাসুদা ফারুক রতœা, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এ এস এম বদরুল আলম, কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক ফেরদৌস আরা রুমি এবং স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধি শিল্ড বাংলাদেশের নির্বাহী প্রধান মো. মাহাবুবুল আলম ফিরোজ ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, স্থানীয় সিএসও বা এনজিওদের মানবিক উন্নয়ন কার্যক্রমে সমান অংশীদার হিসেবে নেতৃত্বে আসতে সবার সহযোগিতা দরকার। আন্তর্জাতিক এনজিও এবং জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর প্রতি দেশীয় এনজিওদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করার সময় সমানভাবে বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। দেশীয় এনজিওদের টিকে থাকা এবং স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্যই এই সমতাভিত্তিক অংশীদারিত্ব রাখতে হবে। বদরুল আলম বলেন, আমরা আমাদের এই প্রত্যাশা ও দায়বদ্ধতার সনদ বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সিএসও ও এনজিও সমন্বয় প্রক্রিয়া নামের একটি ফোরাম তৈরি করেছি। যার মাধ্যমে একটি সার্বভৌম, দায়বদ্ধ ও স্থায়িত্বশীল এনজিও খাত গড়ে তোলার জন্য প্রচারণা এবং আলোচনা চালিয়ে যাবো। আমরা সরকারসহ সবার সহযোগিতা কামনা করি।

মাহাবুবুল আলম ফিরোজ বলেন, ২০১৬ সালের মে মাসে ইস্তাম্বুুলে গ্রান্ড বারগেন প্রতিশ্রুতি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে এই প্রথম স্পষ্টভাবে স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ, স্থানীয়করণ এসব বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়। জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থাসহ, প্রায় সব দাতাসমূহ এবং আইএনজিওদের নেটওয়ার্ক এই চুক্তি স্বাক্ষর করে। কিন্তু বাস্তবে এর কোন প্রতিফলন আমরা দেখছি না ।

একেএম জসিম উদ্দিন বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক গবেষণা উল্লেখ করেছে দেশীয় এনজিওগুলো অনেক কম খরচে কাজ করতে পারে। স্থানীয় উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে আরও যোগ্য করে তুলতে হবে। যেহেতু স্থানীয় এনজিওরাই সংকটে সবার আগে সাড়া দেয়, তাই তাদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। মাসুদা ফারুক রতœা বলেন, মানবিক এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এর মাধ্যমে পুনরাবৃত্তিরোধ করা যায়, ব্যবস্থাপনা বা লজিস্টিক্যাল খরচ কমানো যায়। সর্বোপরি সবার পরিচালন ব্যয়ও কমানোর চেষ্টা করা যায়।

মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন জাতিসংঘ সংস্থা এবং আইএনজিওগুলোকে তাদের অংশীদারিত্বের নীতিমালা তৈরি করে। স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক অংশীদার নির্বাচন করতে হবে। খরচের মধ্যে বিলাসিতা এবং প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করতে হবে। আয় ব্যয়ের পূর্ণ স্বচ্ছতা প্রকাশ করতে হবে। যেখানে ব্যবস্থাপনা ব্যয় এবং অংশীদারদের জন্য ব্যয়সহ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে কত যাচ্ছে তার বিবরণ প্রকাশ করতে হবে। এতে জনগণ ক্রমাগতভাবে মনিটর করে কিভাবে খরচ কমানো যায়, তা বলতে পারে।