• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১

আন্তঃব্যাংক লেনদেনে বেড়েছে ডলারের দর

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯

image

পাঁচ মাস স্থির থাকার পর আন্তঃব্যাংকে টাকার বিপরীতে বাড়ল ডলারের দর। প্রতি ডলারে ১৫ পয়সা বেড়ে গত রোববার ৮৪ টাকা ৬৫ পয়সায় উঠেছে। দুর্নীতি ও ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর গত সপ্তাহে খোলাবাজারে নগদ ডলারের দর বেড়ে ৮৭ টাকা হয়েছে। এবার এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের ডলার কেনার দর বাড়ল। আন্তঃব্যাংকে ডলারের দর বাড়লে আমদানি, রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের দরে প্রভাব পড়ে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, গত ৬ মে থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলার ৮৪ টাকা ৫০ পয়সায় অপরিবর্তিত ছিল। গত রোববার হঠাৎ করে দর বেড়েছে এবং গতকালও একই দর ছিল। বর্তমানের এ দর আগের বছরের একই দিনের তুলনায় ৮৫ পয়সা বেশি। গত বছরের ৭ অক্টোবর আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলার ৮৩ টাকা ৮০ পয়সা দরে বিক্রি হয়। এর আগে ২০১৭ সালের একই দিনের তুলনায় গত বছর ডলারে বেড়েছিল ৩ টাকা। অতিরিক্ত দর বৃদ্ধি ঠেকাতে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে প্রচুর ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে করে রিজার্ভ না বেড়ে ৩২ বিলিয়নের আশপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। গত ২ অক্টোবর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলারে রয়েছে।

এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান বলেন, সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় ডলারের দর কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানের এ দর বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক বলা যাবে না। বিশ্বব্যাপী বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সিংহভাগই হয় নন ফিজিক্যাল ফর্ম তথা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর ভিত্তিক।

এদিকে ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকার বিপরীতে ডলার শক্তিশালী করার উদ্যোগে খোলাবাজারে (কার্ব মার্কেট) টাকার বিপরীতে ডলারের দামও বেড়ে গেছে। গতকাল প্রতি ডলার ৮৭ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংকগুলোর কাছে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার দরে ৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী গত তিন মাস ধরে অব্যাহতভাবে রপ্তানি আয় কমছে। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় হয়েছে ২৯১ কোটি ৫৮ লাখ ডালার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ কম। আর গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় কমেছে ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস (জুলাই- সেপ্টেম্বর) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

এর আগে গত সোমবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, প্রতি বছর ১৫ থেকে ১৬ বিলিয়ন রেমিট্যান্স আসতো। তবে বর্তমানে রেমিট্যান্সে যে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে তাতে এবার ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা করছি।

ডলার হারে পরিবর্তনকে ভাল উদ্যোগ বলছেন অনেক অর্থনীতিবীদ। তাদের মতে এতে প্রবাসীরা লাভবান হবেন। সেই সঙ্গে রপ্তানিকারকরাও সুবিধা পাবেন। এর আগে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমাতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) পক্ষ থেকে সরকারকে পরামর্শ দেয়া হয়। এছাড়া, গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় টাকার শক্তিশালী অবস্থানের কারণ উল্লেখ করে গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানকে চিঠি দেন। এ প্রসঙ্গে সিপিডির গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ডলারের বিপরীতে টাকার মান পুনর্নিরধারণের বিষয়টি আমরা অনেকদিন ধরেই বলে আসছি। ডলারের বিপরীতে টাকার মান কিছুটা কমলে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা করা সহজ হবে।