• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১১ ফাল্গুন ১৪২৪, ৬ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

আইপিও জটিলতায় পুঁজিবাজারে নিরুৎসাহি উদ্যোক্তারা

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

image

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা উদ্যোক্তাদের পুঁজিবাজারে আসার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করছে। এছাড়া আইপিও অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেক কোম্পানির মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্য ব্যাহত করছে। এক্ষেত্রে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ সময়ক্ষেপণের চেয়ে অনেকের কাছেই ব্যাংক ঋণ পাওয়া সহজসাধ্য। এ কারণে অনেক মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসতে অনাগ্রহী হয়ে ওঠে। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পদ্ধতি পর্যালোচনা করে আইপিও প্রক্রিয়া সহজে ও স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করা গেলে বিভিন্ন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হবে একটি সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।

গতকাল রাজধানীর সেগুন বাগিচার ফার্স হোটেলে বিজনেস আওয়ার আয়োজিত ‘শিল্পায়নে আইপিওর গুরুত্ব’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা একথা বলেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান উপদেষ্টা আকতার হোসেন সান্নামাতের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম, বিএমবিএর সিনিয়র সহ-সভাতি মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ, আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান এবং ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি হাসান ইমাম রুবেল বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে শিল্পায়নে আইপিওর গুরুত্ব নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গাজী টিভির প্রধান প্রতিবেদক রাজু আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানি আনতে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব কি তা বুঝে কাজ করতে হবে। এত মার্চেন্ট ব্যাংকেরই অনুমোদন দেয়া হয়েছে কিসের ভিত্তিতে তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিবেচনা নেয়া উচিত। এখন মাচেন্ট ব্যাংকগুলোকে নিজেদের কাজ অন্তরদৃষ্টি দিয়ে বিশ্লেষণ করা উচিত। কারণ পুঁজিবাজারে ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানি আনতে তাদের ভূমিকা অনেক বেশি।

তিনি বলেন, ভালো কোম্পানি আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনেরও (বিএসইসি) একটা ভূমিকা রয়েছে। সেটা হলো সমঝোতার ভিত্তিতে বাজারে কোম্পানি তালিকাভুক্ত করানো। আগে বিএসইসি সমঝোতা করে বার্জার, গ্রামীণফোন এবং তিতাসের মতো কোম্পানি বাজারে আনতে সক্ষম হয়েছিল। এছাড়া কর ফাকি দেয়া এবং ঋণ নিয়ে পরিষোধ না করার সুযোগ থাকার কারণে অনেক কোম্পানি বাজারে আসতে চায় না। তবে এর জন্য বিচারিক কার্যক্রমের দীর্ঘসূত্রিতা কীভাবে কমিয়ে আনা যায় তা ভাবতে হবে। প্রয়োজনে রেগুলেটরসহ আইন মন্ত্রণালয় মিলে প্রধান বিচারপতির স্মরণাপন্ন হওয়া যেতে পারে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শিল্প খাতের মূলধনের প্রধান উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য উৎপাদনশীল খাতে নতুন রতুন কোম্পানি গড়ে তোলা বা বিদ্যমান ভাল কোম্পানির কার্যক্রম সম্প্রসারণে প্রথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের মাত্রা বাড়াতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে। কিন্তু সেকেন্ডারি মার্কেটের অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজার থেকে মূলধন স্থান্তরের মাত্রা বাড়ছে না।

সেমিনারে বিএসইসির কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে কাজ করে না। বিশেষ করে ভালো কোম্পানি আনার ক্ষেত্রে। ৫৮টি মার্চেন্ট ব্যাংক যদি একটি করে ইস্যু জমা দিত তবে এমন পরিস্থিতি ঘটত না।

আইপিও অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএসইসি একটি নির্দিষ্ট শর্ত মেনে কোম্পানিগুলোকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে। তবে সেখানে নানা গ্যাপ থেকে যায়। অনেক কোম্পানি সব কিছু গুছিয়ে আনার পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্টে (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) খেলাপি ধরা পড়ার কারণে বাতিল হয়ে যায়। তবে ২০১৫ সালের পাবলিক ইস্যু রুলস প্রকাশের পর এখন কাজে অনেক গতি এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ সময় সাবেক বিএসইসি চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, অনেক সুবিধা পাওয়ার পরেও ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসছে না। তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে। কারণ পুঁজিবাজারের বাইরের কোম্পানিগুলোর ভ্যাট ফাঁকি ও ঋণ পরিশোধ না করার সুযোগ থাকে। আবার তুলনামূলক ঋণ সুবিধা বেশি পাওয়া যায় সেখানে। আর পুঁজিবাজারে আসলে এজিএম করতে হয়, লভ্যাংশ দিতে হয়, জবাবদিহি করতে হয় এবং কোম্পানিতে স্বচ্ছতা আনতে হয়। এ কারণে বিদেশি কোম্পানিও বাজারে আসতে চায় না বলে উল্লেখ করেন তিনি।