• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭, ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

অর্থমন্ত্রীর হিসাবে কমেছে খেলাপি ঋণ

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯

image

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে খেলাপি ঋণ বাড়লেও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন তার শপথ নেয়ার দিন থেকে খেলাপি ঋণ বাড়েনি বরং কমেছে। গত সোমবার সচিবালয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন তিনি। এ সময় তিনি এমন দাবি করেন।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে নন পারফর্মিং লোন নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছি। শপথ যেদিন নিয়েছিলাম, সেদিনই বলেছিলাম, বাড়বে না। আপনারা পত্রিকায় লিখেছেন বাড়ছে। আমার কাছে যে তথ্য আছে সে তথ্য অনুযায়ী তা বাড়েনি। চলতি বছরের শুরুতে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর মুস্তফা কামাল ঘোষণা দিয়েছিলেন, খেলাপি ঋণ আর ‘এক টাকাও বাড়বে না’। সেজন্য ঋণ অবলোপনের নীতিমালা শিথিলসহ কিছু পদক্ষেপও নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য গণমাধ্যমে আসে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চের বিভিন্ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার হারের সঙ্গে জুনের তুলনা দেখিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, জুন নাগাদ সোনালী ব্যাংক ২৫ শতাংশে এ আসছে, জনতা বাংকের ৩৫ শতাংশে, অগ্রণী ব্যাংকেরও কমেছে ১৪ শতাংশ, রূপালী ব্যাংক ১৭ শতাংশে এসেছে। তবে বেসিক ব্যাংক ও অন্য ব্যাংক একই ফিগার রয়েছে। হিসাব থেকে দেখা যাচ্ছে, যে ফিগার ছিল, তা কমে এসেছে। এটি গুড সাইন।

গত ১০ জুন প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের মার্চে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। প্রথম প্রান্তিকে (জানু-মার্চ) ১৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকাকে শ্রেণীকৃত ঋণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রান্তিক হিসেবে এমন বৃদ্ধি আগে হয়নি। এটিও খেলাপি ঋণ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড। এখন মোট ঋণের ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ খেলাপি ঋণ। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর ছিলো ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং ২০১৮ সালের মার্চে শতাংশ হিসাবে তা ছিলো ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০১৮ সালের শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৯১১ কোটিতে।

তবে ঋণ খেলাপিদের খেলাপির চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন হলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও কমে আসবে বলে আশাবাদী মুস্তফা কামাল। ব্যাংক ঋণে সুদের হার এক অঙ্কে নেমে এলে তার প্রভাবে খেলাপি ঋণও কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, সিঙ্গেল ডিজিটে না হলে নন পারফর্মিং লোন বাড়ে। ঋণ গৃহীতা ও ব্যবসায়ীদের লাভবান করার জন্য এ কাজ করা হচ্ছে। আমাদের দেশে ইন্টারেস্ট ক্যালকুলেশন সিম্পেল রেইটে করে না, কমপাউন্ডিং করে ক্যালকুলেশন করে। সিম্পেল ইন্টারেস্ট রেইট করতে হবে। টাকাটা জীবনেও পাব না এটা ভালো না। টাকাটা পাব, এটা ভালো। ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি এই খাত গতিশীল করতে সরকারের চেষ্টার কথাও তুলে ধরেন মুস্তফা কামাল।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ব্যাংকিং খাত জোরদার করতে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হবে, ক্রটি বিচ্যুতি যারা করেছে, তারা স্বীকার করছে টাকা পয়সা দিয়ে দেবে, তা গ্রহণ করা হবে। যারা অন্যায়ভাবে টাকা দেশের বাইরে নিয়ে গেছে তাদের বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নিচ্ছি। এরই মাঝে জনতা ব্যাংক ও ফারমার্স ব্যাংকের অনেকে জেলে আছে।