• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২৫ চৈত্র ১৪২৬, ১৩ শাবান ১৪৪১

অটোমেশনে ব্যাংক খাতে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বুধবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) কম্পিটিশন, কনসেনট্রেশন অ্যান্ড ব্যাংকিং সেক্টর স্টাবিলিটি শীর্ষক সেমিনারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যেক ব্যাংক তাদের ব্যবসায়িক লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সব ক্ষেত্রে পৌঁছেছে। এর ফলে বিদ্যমান পণ্যে এবং মার্কেট শেয়ার ভাগাভাগি হয়েছে। এ অবস্থায় অটোমেশন ভিত্তিক নতুন পণ্য ব্যাংকিং খাতে প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা সৃষ্টি করতে পারে।

মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ‘কম্পিটিশন, কনসেনট্রেশন অ্যান্ড ব্যাংকিং স্টাবিলিটি’ শীর্ষক সেমিনারে উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং বিআইবিএম নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এস এম. মনিরুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইবিএম-এর পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন এবং কন্সালটেন্সি) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জী।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএম-এর মহাপরিচালক মহাঃ নাজিমুদ্দিন; বিআইবিএমের ড. মোজাফফর আহমদ চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা; সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এ চৌধুরী; পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী; বিআইবিএম-এর সাবেক সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মো. ইয়াছিন আলি; ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড- এর প্রেসিডেন্ট এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী; সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী ওসমান আলী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

সেমিনারে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএম-এর সাবেক অনুষদ সদস্য আবদুল কায়উম মোহাম্মাদ কিবরিয়া। পাঁচ সদস্যের গবেষণা দলে অন্যান্যের মধ্যে রয়েছেন- বিআইবিএম-এর সহকারী অধ্যাপক অন্তরা জেরিন; সহকারী অধ্যাপক রেক্সোনা ইয়াসমিন এবং তোফায়েল আহমেদ; বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক ড. ইফতেখার আহমেদ রবিন।

সেমিনারের উদ্বোধন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং বিআইবিএম নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এস এম. মনিরুজ্জামান বলেন, ব্যাংকের সংখ্যা, অপারেশন এরিয়া, একসেস টু ক্রেডিট, ব্যয়, আর্থিক সেবা, ইনোভেশন ইত্যাদি বিবেচনায় বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাত অনেক বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ। প্রতিযোগিতা জাতীয় অর্থনীতি, সমাজের জন্য কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক হলেও ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে আর্থিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করণে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য বিভিন্ন আইন প্রণয়ন এবং সংশোধন করেছে সংস্থাটি। মূলত ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় এ ধরণের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএম-এর মহাপরিচালক মহা. নাজিমুদ্দিন বলেন, গ্রাহকদের দিক বিবেচনায় ব্যাংকারদের সেবা প্রদান করতে হবে। তিনি বলেন, বিআইবিএম-এর গবেষণা নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা তার বক্তব্যে ব্যাংকিং খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা আবশ্যক বলে উল্লেখ করেন।

পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকগুলোর শাখা সম্প্রসারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলকে বেছে নিতে হবে। সেই সঙ্গে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে নীতিমালা আছে তা পরিপালন করলে অনেকাংশে সুফল পাওয়া যাবে। ব্যাংকগুলোকে এমআইএস শক্তিশালী করতে হবে। যাতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতরা সব তথ্য সহজে পায়। শ্রেণীকৃত ঋণ কমানোর জন্য ব্যাংকের আইসিসি কে শক্তিশালী করতে হবে এবং বোর্ড ও সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট সকলকে আইসিসির আমলে নিতে হবে।

বিআইবিএম-এর সাবেক সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মো. ইয়াছিন আলি বলেন, প্রতিযোগিতার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকতে হবে। সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হবে। সরকারি ব্যাংকের মতো বেসরকারি ব্যাংকেও গ্রাহকের আমানতের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা না থাকলে মার্কেট সম্প্রসারণ হবে না। এটি করতে না পারলে গ্রাহকরা সুবিধা পাবে না।