• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭, ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

নতুন কৃষিঋণ নীতিমালা ঘোষণা

২৪ হাজার কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্য

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯

image

নতুন অর্থবছরের জন্য কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা গতকাল ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন

  • রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলোর লক্ষ্য ১০ হাজার কোটি টাকা
  • কাজুবাদাম ও রাম্বুটান চাষিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
  • গত বছর লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিতরণ ১০৮ শতাংশ

চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছরের জন্য ২৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যা গত (২০১৮-১৯) অর্থবছরের চেয়ে ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। কৃষি ও পল্লী ঋণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় চলতি অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকসমূহের জন্য ১০ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য দেয়া হয়েছে ১৩ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকার লক্ষ্য। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো মোট ২৩ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করেছে। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১০৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। তবে গত অর্থবছরে কৃষি ঋণ বিতরণে সার্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হলেও ৮টি ব্যাংক তাদের নিজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন অর্থবছরের জন্য কৃষি ও পল্লী ঋণ এ নীতিমালা ঘোষণা করা হয়। নীতিমালা ঘোষণা অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারের কৃষি ও কৃষকবান্ধব নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে টেকসই উন্নয়নের নির্ধারিত লক্ষ্যের প্রথম ও প্রধান তিনটি লক্ষ্য তথা দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধা মুক্তি এবং সুস্বাস্থ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে কৃষি ঋণ সরবরাহের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর কৃষি ঋণ নীতিমালা তৈরি করা হয়। গত অর্থবছর নীতিমালা ও লক্ষ্যমাত্রার আলোকে মোট ৩৮ লাখ ৮৩ হাজার ৪২৪ জন কৃষক কৃষি ও পল্লী ঋণ পেয়েছেন, যার মধ্যে ব্যাংকসমূহের নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও এমএফআই লিংকেজের মাধ্যমে ১৬ লাখ ১ হাজার ৮৫৬ জন নারীকে প্রায় ৭ হাজার ১৯০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া অর্থবছরে ২৯ লাখ ৮৯ হাজার ২৩৭ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ১৬ হাজার ৩২২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং চর, হাওর প্রভৃতি অনগ্রসর এলাকার ৯ হাজার ৯৫০ জন কৃষক প্রায় ৩১ কোটি ৬১ লাখ টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ পেয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে ডেপুটি গভর্নর মনিরুজ্জামান বলেন, কিছু দুর্বল ব্যাংক ছাড়া সবাই কৃষি ঋণে অংশগ্রহণ করছে। মধুমতি ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থা খারাপ হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। তাদের বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিবেচনা করছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর উদ্দেশ্য হলো জনসাধারণের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা। একই সঙ্গে কৃষকদের কাছে কৃষিঋণ সহজলভ্য করা। এজন্য বর্তমান নীতিমালা ও কর্মসূচিতে বেশ কিছু সময়োপযোগী বিষয় সংযোজিত হয়েছে।

এই নীতিমালার উল্লেখযোগ্য নতুন বিষয়গুলো হলো- এমএফআই লিংকেজের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে হ্রাস করে ব্যাংকসমূহকে নিজস্ব শাখা এবং এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির নির্দেশনা প্রদান; কাজুবাদাম চাষে ঋণ প্রদান; রাম্বুটান চাষে ঋণ প্রদান; কচুরিপানার ডাবল বেড পদ্ধতিতে আলু চাষে ঋণ প্রদান; ১ টাকা হতে যে কোনো অঙ্কের সব বকেয়া শস্য ও ফসল ঋণের ক্ষেত্রে সিআইবিতে রিপোর্ট করতে হবে কিন্তু নতুন মঞ্জুরি বা নবায়নের জন্য ২.৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত শস্য ও ফসল ঋণের ক্ষেত্রে সিআইবি রিপোর্ট সংগ্রহের প্রয়োজন হবে না; ঋণ পরিশোধের স্বাভাবিক সময়সীমা (বীজ উৎপাদন ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের জন্য) সংযোজন; শস্য/ফসল খাতে ঋণ বিতরণের জন্য একরপ্রতি ঋণ সীমা যৌক্তিক পরিমাণ বৃদ্ধিকরণ; গাভী পালন, গরু মোটাতাজাকরণ, ছাগল ও ভেড়া পালনের জন্য ঋণ নিয়মাচার সংযোজন; বাণিজ্যিকভাবে রেশম উৎপাদনের জন্য ঋণ নিয়মাচার সংযোজন; এটুআই কর্তৃক গৃহীত কৃষি ও পল্লী ঋণ সহজীকরণ সিস্টেমটির পাইলটিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন।