• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১৮ জিলকদ ১৪৪১

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর প্রতিবেদন

রপ্তানি আয় ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমেছে

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২০

image

রপ্তানি আয় দিন দিন কমেই চলেছে। চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) প্রথম আট মাসে রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ৬৪১ কোটি ডলারের পণ্য, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ কম। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গত বৃহস্পতিবার রপ্তানি আয়ের এ হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ২ হাজার ১৮৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ কম।

পোশাক রপ্তানি কমলেও পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে। আট মাসে ৬৯ কোটি ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি। আলোচ্য সময়ে ৬৩ কোটি ১৮ লাখ ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৯ শতাংশ কম।

অন্যদিকে, ৫২ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম। হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি হয়েছে ৩৭ কোটি ডলারের। এ ক্ষেত্রে রপ্তানি কমে গেছে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ। গত অর্থবছরে ৪ হাজার ৫৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। চলতি অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার। তবে প্রথম আট মাস শেষে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি পিছিয়ে আছে ১২ দশমিক ৭২ শতাংশ।

জানা যায়, দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই খাত থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানি আয় এসেছিল ৩ হাজার ৪১৩ কোটি ৩২ লাখ ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে তৈরি পোশাক খাতে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় অর্জিত হয়েছে ২ হাজার ১৮৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় এসেছিল ২ হাজার ৩১২ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। সে হিসাবে এ খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি কমার পাশাপাশি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি তৈরি পোশাক খাত। লক্ষ্যমাত্রা কমেছে ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক গণমাধ্যমকে বলেন, ইতোমধ্যে পিভিএইচ, রাল্ফ লরেনসহ বেশকিছু ব্র্যান্ডের খুচরা দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অনেক স্পোর্টসের ব্র্যান্ড ৮০ শতাংশ লোকসান গুনেছে। ফলে তা আমাদের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, চীন থেকে আমদানিনির্ভর অনেক এক্সেসরিজের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় এখানে উৎপাদন খরচও বেড়েছে। সবমিলিয়ে আগামী দিনগুলোতে আরো বড়ো চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত আট মাসে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় এসেছে ১ হাজার ৮৯ কোটি ৮৭ লাখ ডলার যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ কম। একই সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রা কমেছে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ। অন্যদিকে ওভেন পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১ হাজার ৯৪ কোটি ৮৮ লাখ ডলার যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ কম। পাশাপাশি ১৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা কমেছে ওভেনে।

ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ২৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ ও লক্ষ্যমাত্রা ২৮ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে এ খাত থেকে আয় এসেছে ৬৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। এদিকে গত আট মাসে প্লাস্টিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি কমেছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। এ সময়ে আয় হয়েছে ৭ কোটি ৫৪ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৩ দশমিক ৯১ শতাংশ কম। গত ৭ মাসে হোম টেক্সটাইল খাতে প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রা দুটিই কমেছে। এ সময় আয় এসেছে ৫২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই ফেব্রুয়ারি মাস শেষে কৃষিপণ্য রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এ খাত থেকে আয় এসেছে ৬৬ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অন্যদিকে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ।