• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ০১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৩ জিলকদ ১৪৪১

সব ঋণে ৯ শতাংশ সুদহার

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের রুল

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২০

ক্রেডিট কার্ড ছাড়া ব্যাংকের সব ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি জারি করা ওই প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এই রুল জারি করে।

প্রজ্ঞাপনটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। অর্থ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান। ক্রেডিট কার্ড ছাড়া ব্যাংকের সব ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে গত ২৪ এপ্রিল ওই প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ। সেখানে বলা হয়, চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে এই সুদহার কার্যকর হবে।

পরে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন জানান, ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রজ্ঞাপন দিয়ে বলেছে- ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৯ শতাংশের বেশি লোনের ক্ষেত্রে ইন্টারেস্ট নিতে পারবে না। মৌখিকভাবে বলেছিল প্রতিষ্ঠানগুলো ৯ শতাংশের বেশি নিতে পারবে না, আর আমানতকারী যারা টাকা রাখেন তাদের ৬ শতাংশের বেশি সুদ দেবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে আমানতকারীদের বিষয়ে কিছু বলা নেই। কিন্তু সুদের হার ৬ শতাংশের কারণে এবং কমানোর কারণে ২ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কী পলিসি ডিসিশনের কারণে এটা করা হয়েছে সেটা জানতে আদালতের কাছে বক্তব্য তুলে ধরব। প্রজ্ঞাপনে শুধু ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কথা রয়েছে। অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কথা নেই। এখন তারা চাইলে যা ইচ্ছা ইন্টারেস্ট নিতে পারবে। শুধু ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান কেন, পলিসি ডিসিশনের ক্ষেত্রে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

ওই প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে গত রোববার হাইকোর্টে এই রিট আবেদন করেন মাহফুজুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনটিতে বলা হয়েছে, ক্রেডিট কার্ড ব্যতীত অন্য সব খাতে অশ্রেণীকৃত ঋণ, বিনিয়োগের উপর সুদ, মুনাফা হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হল। কোন ঋণ, বিনিয়োগের উপর উল্লিখিতভাবে সুদ, মুনাফা হার ধার্য করার পরও যদি সংশ্লিষ্ট ঋণ, বিনিয়োগ গ্রহীতা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয় সেক্ষেত্রে যে সময়কালের জন্য খেলাপি হবে অর্থাৎ মেয়াদি ঋণ, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে খেলাপি কিস্তি এবং চলতি মূলধন ঋণ, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মোট খেলাপি ঋণ, বিনিয়োগের উপর সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হারে দ- সুদ, অতিরিক্ত মুনাফা আরোপ করা যাবে। প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ঋণের বিদ্যমান সর্বোচ্চ সুদ, মুনাফা হার ৭ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকবে। সুদ, মুনাফা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দ-সুদ, অতিরিক্ত মুনাফা ব্যতিরেকে ঋণ, বিনিয়োগের উপর অন্য কোন সুদ, মুনাফা, দ-সুদ, অতিরিক্ত মুনাফা আরোপ করা যাবে না। চলতি বছর হতে ব্যাংকের মোট ঋণ, বিনিয়োগ স্থিতির মধ্যে এসএমই’র ম্যানুফ্যাকচারিং খাতসহ শিল্প খাতে প্রদত্ত সব ঋণ, বিনিয়োগ স্থিতি অব্যবহিত পূর্ববর্তী ৩ বছরের গড় হারের চেয়ে কোনভাবেই কম হতে পারবে না। ১ এপ্রিল থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।