• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ২২ জিলকদ ১৪৪১

পোশাক খাতের ২৬৯ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ স্থগিত-বাতিল

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ২৯ মার্চ ২০২০

image

এটি দেশের উন্নত একটি পোশাক কারখানা। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের কারণে এই কারখানারও বেশ কয়েকটি ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে

করোনারভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একের পর এক ক্রয়াদেশ হারাচ্ছে তৈরি পোশাক খাত। শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) জানিয়েছে, গতকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত ৯৭৮ কোম্পানির অধীনে থাকা কারখানাগুলোতে ২৬৯ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হয়েছে।

এসব ক্রয়াদেশের আওতায় ছিল ৮৩ কোটি ২০ লাখ পিস পোশাক। ৯৭৮ প্রতিষ্ঠানের আওতায় আছে ১৯ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক। ক্রয়াদেশ বাতিল-স্থগিত করা ক্রেতাদের মধ্যে প্রাইমার্কের মতো বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানও আছে। আয়ারল্যান্ডভিত্তিক প্রাইমার্কের পাশাপাশি ক্রয়াদেশ বাতিল-স্থগিত করেছে ইউরোপের ছোট-মাঝারি-বড় সব ধরনের ক্রেতারাও। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো একের পর এক লকডাউন ঘোষণা করছে। বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করছে পোশাকের ব্র্যান্ডগুলো। এ পরিস্থিতিতে ভোক্তা চাহিদায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বাজার চাহিদার এ পরিস্থিতিতে নতুন ক্রয়াদেশ দিচ্ছে না ক্রেতারা। শুধু তাই নয়, বাতিল ও স্থগিত করছে আগের দেয়া ক্রয়াদেশও, যার ফলে ব্যাপক মাত্রায় ক্রয়াদেশ হারাচ্ছে দেশের তৈরি পোশাক খাত।

যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইতালিসহ অধিকাংশ দেশে ৯৯৬টি কারখানার ৮২৮ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন পোশাক পণ্যের অর্ডার বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ ২ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এসব কারখানায় ১৯ লাখ ৭ হাজার শ্রমিক কর্মরত আছেন।

এদিকে উদ্ভূত করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক খাতের সাতটি কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন মালিকরা।

এছাড়া আর্থিক সংকটের কারণে গত ১৪ মাসে (২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত ১০৬টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের ১৮ মার্চে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ৪১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় এ বছরের ১৯ মার্চে কমেছে ১২ দশমিক ২ শতাংশ। তার আগের বছরের তুলনায় এ বছরের ২০ মার্চ রপ্তানি কমেছে ৪৪ দশমিক ১৫ শতাংশ।

বিজিএমইএ’র নেতারা বলছেন, আর্থিক সংকটের কারণে কিছুদিনের মধ্যে অন্তত এক হাজার পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে।

গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের ক্ষেত্রে মালিকরা কিছুটা ভারমুক্ত হলেন বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ’র সভাপতি ড. রুবানা হক।

তিনি বলেন, রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা মালিকদের প্রতি মাসে শ্রমিকের মজুরি বাবদ চার হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর এমন উদ্যোগে শ্রমিক মজুরি পরিশোধ নিয়ে গার্মেন্টস মালিকরা কিছুটা ভারমুক্ত হলেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি বাণিজ্যে আঘাত আসতে পারে। এই আঘাত মোকাবিলায় আমরা কিছু আপতকালীন ব্যবস্থা নিয়েছি। রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য আমি পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করছি। এ তহবিলের অর্থ দিয়ে কেবল শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা যাবে।