• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭, ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

পুঁজিবাজারের অস্বাভাবিক আচরণ

তিন দিন বড় পতনের পর হঠাৎ বড় উল্লম্ফন

সংবাদ :
  • রোকন মাহমুদ

| ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯

image

দেশের পুঁজিবাজারে টানা তিন দিন বড় দরপতনের পর গতকাল হঠাৎ সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। গতকাল সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে লেনদেন শেষে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১১১ পয়েন্ট। একই অবস্থা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। এদিন বাজারটিতে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২৯৮ পয়েন্ট। তবে সূচক বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ আগের দিন সোমবারের চেয়ে আরও কমেছে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে মাত্র ৩১৭ কোটি টাকা।

অথচ এর আগে গত তিন কার্যদিবসে ডিএসইএক্স সূচক কমে ১৬৭ পয়েন্ট। সোমবার এই সূচক ৬৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক সীমার নিচে নেমে যায়। ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বরের পর এটিই সর্বনিম্ন অবস্থান। ওই দিন ডিএসইএক্স সূচকটি ৪ হাজার ৯৫৭ পয়েন্টের অবস্থানে ছিল। এক দিনেই ৪ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকার লোকসান গুনতে হয় শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের। অপর শেয়ারবাজার সিএসইতে সার্বিক সূচকটি কমে ২০০ পয়েন্ট বা সোয়া ১ শতাংশ। দাম কামে যাওয়া শেয়ার ক্রয়ের আগ্রহে বাজারে উত্থান হয়েছে- অনেকে এমন যুক্তি দিচ্ছেন। এছাড়া অনেকে বলছেন সরকারের প্রণোদনা স্কিমের টাকা ছাড় হওয়ার খবরেই হঠাৎ উত্থান হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন বাজারের বর্তমান আচরণ স্বাভাবিক নয়। বাজারের চলমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে কোন একটি পক্ষ এর পিছনে রয়েছে। বিএসইসিকে এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। বাজারকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দেয়া উচিৎ। অন্যথায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখনও যে আস্থাটুকু রয়েছে তাও থাকবে না। গতকাল ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩১৭ কোটি টাকা। সোমবার এই লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৬৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩২৭টির, কমেছে ১৫টির, অপরিবর্তিত আছে ৯টির দর। দরপতনের পর কম দামে শেয়ার কিনতে অনেকে আগ্রহী হওয়ায় সূচকের এই উল্লম্ফন ঘটেছে বলে মনে করছেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভী। শাকিল রিজভী বলেন, পুঁজিবাজারে শেয়ারের দাম অনেক কমে গিয়েছিল। চরম আস্থাহীনতার কারণে মানুষ ভয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছিল। মার্কেট ফোর্সই বিনিয়োগ ডেকে এনেছে। মানুষ কম দামে শেয়ার কিনতে এসেছে। তাই আজকে সূচক বেড়েছে। তবে অনেকে বলছেন পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রণোদনা স্কিমের ৮৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ছাড়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি দেয়ার পর মঙ্গলবার দেশের শেয়ারবাজারে উল্লম্ফন হয়েছে। গত সোমবার বিএসইসি এ চিঠি দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক এ অর্থ ছাড় করলে তা বিনিয়োগের জন্য শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট ২৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হবে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো অফার লেটার পেয়েছে। গত ৩০ জুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পাস হওয়ার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত মাত্র ১৫ কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীদের লোকসান হয়েছে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা। শেয়ারের মূল্যমান কমে যাওয়ায় প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা থেকে ডিএসইর বাজার মূলধন নেমে এসেছে ৩ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকায়। এর মধ্যে গতকাল এক দিনেই ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্যমান ৪ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা কমে বাজার মূলধন নেমে এসেছে ৩ লাখ ৭২ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকায়। লেনদেনযোগ্য শেয়ারসংখ্যার সঙ্গে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর শেয়ারের বাজারমূল্যের গুণফলই বাজার মূলধন। বাজার মূলধনের পাশাপাশি একই সময়ে ডিএসইএক্স সূচকটি প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ বা ৪৫৬ পয়েন্ট কমে গেছে। গতকাল লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো ফরচুন, সিনোবাংলা, স্কয়ার ফার্মা, ডরিন পাওয়ার, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, বেকন ফার্মা, ন্যাশনাল পলিমার, ব্র্যাক ব্যাংক, সি পার্ল ও মুন্নু সিরামিকস। মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো আজিজ পাইপস, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড, এসইএমএল আইবিবিএল শরীয়াহ ফান্ড, অলিম্পিক এক্সেসরিজ লিমিটেড, সিএএমপি আইবিবিএল ইসলামিক ফান্ড, এসইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড, কে অ্যান্ড কিউ, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ও অ্যাপেক্স ফুডস। অন্যদিকে, সিএসইতে হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৩৩টির, কমেছে ৩৮টির, অপরিবর্তিত আছে ১৩টির দর।