• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ০১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৩ জিলকদ ১৪৪১

‘কেমন চলছে অর্থনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী

অর্থনীতি শক্তিশালী পুঁজিবাজার দুর্বল

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২০

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশের অর্থনীতি অনেক শক্তিশালী কিন্তু পুঁজিবাজার ঠনঠন, সেটাতো হতে পারে না। সুতরাং এর কারণগুলো আপনাদের (ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মো. রকিবুল রহমান) খুঁজে বের করতে হবে। সরকার সমাধান করে দেবে না। সরকার পুঁজিবাজার সমাধান করতে পারে না। তবে পুঁজিবাজারের সমস্যা সমাধানে সব ধরনের সহযোগিতা সরকার করবে।

গতকাল ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি কেমন চলছে শীর্ষক আলোচনা সভায় ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মো. রকিবুল রহমান দেশের পুঁজিবাজারের সমস্যার কথা তুলে ধরলে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, পুঁজিবাজারে সমস্যা রয়েছে। সমাধান হচ্ছে না। সমাধানের পথ তৈরি করুন। আমরা সমাধান দেখতে চাই। সমাধান আপনার হাত দিয়েই সম্ভব।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ, সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান ও ডিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মো. রকিবুল রহমান।

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, সরকারের কাজ হবে পুঁজিবাজারকে সমৃদ্ধ করার জন্য এ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। দেশের সামস্টিক অর্থনীতি যত শক্তিশালী হবে তার রিফ্লেকশন যাবে পুঁজিবাজারে। এটা ডাইরেক্ট লিংক। তারপরও অর্থনীতি অনেক শক্তিশালী কিন্তু পুঁজিবাজার ঠনঠন, সেটাতো হতে পারে না। এক্ষেত্রে আইন অনেক আছে। আইনগুলোতে কোনো অসঙ্গতি আছে কিনা সেগুলো দেখবেন। সেগুলো দেখার জন্য যারা কমিটিতে আছে তাদেরও আপনারা সাহায্য-সহযোগিতা করবেন। এখন এক হয়ে কাজ করলে এর সমাধান পাবেন। একীভূত না হয়ে একে অপরের সমালোচনা করলে আমরা কাজটি করতে পারব না। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, পুঁজিবাজারে অবশ্যই আমাদের সফলতা পেতে হবে। সরকার অর্থনীতিকে কতটা শক্তিশালী করল এর রিফ্লেকশনটা পড়ে পুঁজিবাজারে। এটা একেবারে ডাইরেক্ট প্রতিবিম্ব, আয়না। যেহেতু পুঁজিবাজারের সঙ্গে আমাদের অনেক মানুষ জড়িত সুতরাং পুঁজিবাজারকে বাদ দিয়ে সরকার চিন্তা করে না। আমরা পুঁজিবাজারকে আমাদের সঙ্গে দেখতে চাই, আমাদের অর্থনীতিতে দেখতে চাই। সেজন্য যা কিছু ব্যবস্থা নেয়া দরকার, ব্যবস্থা আপনারা নেন, সরকার সব ধরনের সাহায্য করবে। বিশ্বের জিডিপি প্রবৃদ্ধির দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম দিকে রয়েছে। তবে খেলাপি ঋণের কারণে দেশের ব্যাংক খাতের অবস্থা খুবই নাজুক। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১০ লাখ ১১ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকাই খেলাপি হয়ে গেছে। মোট ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। তবে গত সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ১৬ হাজর ২৮৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ২২ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ কমিয়ে ফেলেছে ব্যাংকগুলো। তবে আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ৪২০ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা।

অন্যদিকে শেয়ারবাজারে ধারাবাহিকভাবে পতন ঘটছে। একদিন সূচক ১০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেলে পরের দিন ২০ পয়েন্ট কমে যাচ্ছে। এতে ডিএসই ও সিএসই’র বাজার মূলধন কমছে। বিনিয়োগকারীরাও বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। আস্থাহীনতায় পর্যবসিত হচ্ছে শেয়ারবাজার। গতকালও প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছ ৪ হাজার ২৮৭ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১৭ পয়েন্ট, ডিএসই-৩০ সূচক ২৭ পয়েন্ট এবং সিডিএসইটি সূচক ১৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৯৯৯, ১৪৩৫ ও ৮৪৭ পয়েন্টে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ৩০৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯৮ পয়েন্টে। এভাবে ধারাবাহিক পতনের মুখে রয়েছে শেয়ারবাজার।