• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

যুগন্ধর-এর বিস্তৃত যাত্রা

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

কবি স্বরূপ মন্ডল সম্পাদিত শিল্প-সাহিত্যবিষয়ক লিটল ম্যাগাজিন ‘যুগন্ধর’ চৌদ্দ বছরে পা দিয়েছে। লিটল ম্যাগাজিনের ইতিহাসে এরকম ঘটনা সচরাচর নয়। সাধারণত লিটল ম্যাগাজিন জন্মের কিছুদিন পরই অপমৃত্যুর ভেতর দিয়ে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু থেকে যায় তার কর্মকা- কিংবা অবদান। নিরলস পরিশ্রমের ভেতর দিয়ে একজন সম্পাদক কিংবা একটি গোষ্ঠি এই বৈষয়িক অলাভজনক কাজটি করে তৃপ্তি পান। সাহিত্যের সেবা কিংবা সাহিত্যের নতুন বাঁক সৃষ্টিই এর মূল উদ্দেশ্য। ‘যুগন্ধর’ তেমনি একটি লিটল ম্যাগাজিন, যা গত চৌদ্দ বছর ধরে একটি বিশেষ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে চলেছে। আর সেটি হলো বিভিন্ন সময় প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বইয়ের বিশ্লেষণ-ব্যাখ্যা কিংবা আলোচনা-সমালোচনা নিয়ে প্রকাশিত হয়। একে এক অর্থে যেমন বুক রিভিউ বলা যায়, অন্য অর্থে বইটির পাঠপর্যালোচনাও বলা যায়। সঙ্গে থাকে কিছু কবিতা গল্প অনুবাদ জাতীয় রচনা।

আর একটি বিষয় উল্লেখ করা দরকার যে, ‘যুগন্ধর’ যে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে, সেটিও প্রথাগত ক্রোড়পত্র নয়, যে লেখক বা কবির উপর ক্রোড়পত্রটি প্রকাশিত হয়, তাঁর উল্লেখযোগ্য বইগুলোর পাঠপর্যালোচনা দিয়ে এটি সাজানো হয়। এই বিষয়টি সম্পূর্ণ নতুন মনে হয়েছে। ইতোপূর্বে এরকম কাজ চোখে পড়েনি। এবং এই কাজটিকে ইতিবাচক অর্থেই ভিন্নতর মনে করি। এ কাজটির বিশেষত্ব এটিই যে, লেখকের সৃষ্টির ভেতর দিয়ে কিংবা তাঁর রচনার ভেতর দিয়ে তাঁকে আবিষ্কার করা। এক্ষেত্রে ক্রোড়পত্র প্রকাশের বিষয়টিও প্রশ্নাতীত থাকে। যেহেতু টেক্সটকে সামনে নিয়ে কাজ, তাই তার নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতাও অধিক। এর বাইরে যে লেখকের সামগ্রিক কাজ নিয়ে কোনো আলোচনা থাকে না, তাও কিন্তু নয়। ওভারঅল লেখককে নিয়েও রচনা মুদ্রিত হয়।

‘যুগন্ধর’-এর আলোচ্য সংখ্যাটি, যা এ বছরের জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়েছে, সেটিও সাজানো হয়েছে দুইজন লেখকের ক্রোড়পত্র দিয়ে। ক্রোড়পত্রের দুজন হলেনÑ পশ্চিমবঙ্গের কথাশিল্পী অমর মিত্র এবং বাংলাদেশের কবি মুজিব ইরম। এঁরা দুজনই স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ তাঁদের স্বতন্ত্র স্বর ও রচনা পদ্ধতির কারণে।

অমর মিত্র অগ্রজ কথাসাহিত্যিক। ইতোমধ্যেই তিনি উভয় বাংলার কথাসাহিত্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এখনো তাঁর নতুন নতুন রচনার দিকে তাকিয়ে থাকেন পাঠক। বই আলোচনাসহ অমর মিত্রের ওপর ছয়টি লেখা মুদ্রিত হয়েছে। লিখেছেন রবিন পাল, পুরুষোত্তম সিংহ, দেবাঞ্জন চক্রবর্তী, অলোক গোস্বামী, স্বস্তি মন্ডল এবং সোনালি মুখোপাধ্যায়।

কবি মুজিব ইরম বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের লোকসংস্কৃতিকে আশ্রয় করে চিরায়ত বাংলা রূপ ও মরমীবোধকে তাঁর কবিতায় ধারণ করে খ্যাত হয়েছেন। তাঁর গুণমুগ্ধ পাঠকের শেষ নেই। তিনি বাংলাদেশের নব্বইয়ের দশকের একজন শনাক্তকারী করি। তাঁর কাব্যভাষা সম্পূর্ণই মুজিব ইরমীয়। বই আলোচনাসহ মুজিব ইরমকে নিয়ে লিখেছেন- তাপস রায়, রুনা চট্টোপাধ্যায়, প্রাণনাথ শেঠ, অশোক দে, সায়ন্তনী নাগ, অরূপ পান্তী, বাপ্পাদিত্য জানা, শুভঙ্কর দাস ও প্রাণজি বসাক।

ক্রোড়পত্রের বাইরে আছে একক গ্রন্থালোচনা ও একজনের একাধিক গ্রন্থালোচনা। অন্য বই অংশে আলোচিত হয়েছে শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে লেখা প্রবীর ভৌমিকের একটি বই। আলোচনা করেছেন মীরাতুন নাহার।

এ সংখ্যায় গল্প লিখেছেনÑ হামিদ কায়সার, ইকবাল তাজওলী, চন্দন বিশ্বাস ও হামিরউদ্দিন মিদ্যা। অনূদিত কবিতা মুদ্রিত হয়েছে অলোক বন্দ্যোপাধ্যায় ও রমাপ্রসাদ দে’র অনুবাদে।

এভাবে বই ধরে ধরে, এবং তার সঙ্গে একাধিক বিষয়ের সমাহার ঘটিয়ে একটি পত্রিকা সুসজ্জিত করণের বিষয়টি কেবল সংশ্লিষ্টরাই অনুধাবন করতে পারেন। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ‘যুগন্ধর’ তার নিরলস প্রয়াসে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করে চলেছে। এ জন্য ধন্যবাদ পাবার যোগ্য সম্পাদক স্বরূপ মন্ডল। এই প্রকাশনার অগ্রযাত্রা আমাদের লিটল ম্যাগাজিন কেন্দ্রিক সাহিত্যচর্চার ধারাকে নিঃসন্দেহে শাণিত করে চলেছে। উপকৃত হচ্ছে সামগ্রিক সাহিত্য।

পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার দন্ডীরহাট, বসিরহাট থেকে। এ সংখ্যার প্রচ্ছদ শিল্পী শঙ্কর দেবনাথ। নামাঙ্কন বিভূতি চক্রবর্তী এবং মূল্য ১৫০ রুপী। বাংলাদেশে ১৭৫ টাকা।

সাময়িকী প্রতিবেদক