• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

মহিবুল আলমের ‘ঈশ্বর’ আধুনিক দ্রৌপদীর আখ্যান

সোহেল মাজহার

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

কথাসাহিত্যিক মহিবুল আলমের লেখালেখির সূচনা গল্প লেখার মাধ্যমে। বাংলা একাডেমির তরুণ লেখক প্রকল্প থেকে প্রকাশিত হয় লেখকের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘তিথিক্ষয় ও আকাশগঙ্গা’। পরবর্তী সময় তিনি আখ্যান রচনায় মনোযোগী হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার ঘটনাকেন্দ্রিক উপন্যাস ‘তালপাতার পুথি’র মধ্য দিয়ে তিনি অনবদ্য রচনা-রচনাশৈলীর প্রমাণ রাখতে পেরেছেন। উপন্যাসটি পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়।

২০১৮ বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার উপন্যাস ‘ঈশ্বর’। মূলত ‘ঈশ্বর’ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তিনি নারী, সমাজ ও মানুষের জীবন ও তাদের অসঙ্গতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এ কথা সত্যÑ উপন্যাস যত দুর্বল কিংবা শক্তিশালী হোক না কেন, তাতে মানুষের জীবন ও সমাজের প্রতিচ্ছবি থাকবে। সেই আখ্যানই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে যার মাঝে মানুষের জীবন ও সমাজের বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ থাকবে। বিশ্লেষণে ধরা পড়বে সামগ্রিকতা, অন্তর্নিহিত কারণ, বহুমাত্রিক প্রভাব। সেই প্রভাব কীভাবে রাষ্ট্র, সমাজ, শিল্প-সাহিত্য, রাজনীতি ও দর্শনের ভিতর প্রতিনিয়ত অভিঘাত তৈরি করছে তার ইতিবৃত্ত।

মহিবুল আলম তার ঈশ্বর উপন্যাসের কাহিনী বিন্যাসে নির্মাণ কুশলতার পরিচয় দিয়েছেন। সমগ্র উপন্যাসের কাহিনী একজন নারীর জীবন ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। নারীর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনের গতি প্রকৃতির অসহায়ত্বের চালচিত্র। উপন্যাসের নারী তার স্বামীর সাথে ঢাকা শহরের উপকণ্ঠে নিম্নবিত্ত জীবনযাপন করে। সেই জীবন সুখে-দুঃখে ভালোবাসা পাওয়া না পাওয়া ব্যক্তিগত দুঃখ ঈর্ষার সমন্বয়ে অতি চেনা কোন সাধারণ আটপৌঢ়ে জীবন নয়। নারীর জীবন এক অর্থে স্বাধীনতাহীন দাসী অর্থাৎ যৌনদাসীর জীবন। আমরা দেখি ‘স্বামী’ ইনকাম ট্যাক্সে জুনিয়র কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তার রুচি ও শিক্ষার মান অত্যন্ত নীচু। দুর্নীতি করে অনেক অর্থবিত্তের মালিক হলেও স্ত্রীর সাথে স্বাচ্ছন্দ্য ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে অনিচ্ছুক। যদিও সে তার অবৈধ উপায় দিয়ে ভাইবোন মা-বাবার জন্য স্বাচ্ছন্দ্য ও নিশ্চয়তা তৈরি করতে মনোযোগী। এমনকি গ্রামে দৃষ্টিনন্দন বাড়ি ও টাইলস দিয়ে মসজিদ তৈরি করাতেও তার যথেষ্ট আগ্রহ। কারণ সে নিজেকে ঈশ্বরের প্রতিনিধি মনে করে। প্রাত্যহিক জীবনে ‘স্বামী’ কখনও ‘নারী’কে ভালোবাসেনি, পছন্দ-অপছন্দ ও রুচির মূল্য দেয়নি। উপরন্তু সে সব সময় ‘নারী’র সাথে দুর্ব্যবহার করেছে। লেখকের বর্ণনায়- ‘স্বামী এরকমই। সে বরাবরই নারীকে সোহাগ করতে গিয়ে করুণা করে। দেহের নিচে রেখে কেমন উদাস দৃষ্টি মেলে। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে সটান হয়। যেন প্রতিদিনের ঝগড়ার মতোই ব্যাপারটা ঘটে যায়।’

নারীর প্রতি স্বামীর অনাগ্রহ থেকেই ‘নারী’ একসময় কবি, চিত্রশিল্পী, নায়ক-গায়ক ও রাজনীতিবিদ এই পঞ্চপান্ডবের সাথে জড়িয়ে যায়। মূলত এই পঞ্চপান্ডবের মধ্য দিয়ে লেখক বর্তমান সমাজের অন্তঃসারশূন্যতা, ভোগবাদিতা, আত্মকেন্দ্রিকতা, স্বার্থপরতা, পরশ্রীকাতরতার স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। যার যার জায়গায় প্রত্যেকেই নিজেকে স্বয়ম্ভু, রুচিবান ও ঈশ্বরের প্রতিনিধি বলে মনে করে। নারীর প্রথম পুরুষ একজন কবি, যে নিজেকে একজন মৌলিক ও স্বতন্ত্র ঘরানার কবি হিসেবে সবসময় আত্মসন্তুষ্টিতে ভোগেন। অন্যদের হয় তিনি ঈর্ষা করেন কিংবা অবহেলা করেন। ‘নারী’ ও নারীর প্রথম পুরুষ কবির মধ্য দিয়ে লেখক বাংলা ভাষার সাহিত্য জগতের অন্ধকার দিকের প্রতি আলোকপাত করেন। তিনি তার আখ্যানের ভিতর দিয়ে এদেশের বেশ কয়েকজন স্বনামধন্য লেখকের সাহিত্যে চৌর্যবৃত্তির প্রমাণ দিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছের হুমায়ূন আহমেদ ঈশ্বর উপন্যাসের লেখক মহিবুল আলমের গল্প ‘উত্তর দূয়ারী’ থেকে তার সবুজ সাথী নাটকের বিখ্যাত চরিত্র ‘মফিজ পাগলা’ তৈরি করেন। কবি শহীদ কাদরীর অভিবাদন প্রিয়তমা কবিতাটি অ্যাড্রিয়েন হেনরির কবিতা DON’T WORRY কবিতা থেকে নেয়া। লেখক অভিবাদন প্রিয়তমা কবিতা এবং DON’T WORRY কবিতা দুটি উল্লেখ করে আক্ষরিক প্রমাণ দিয়েছেন। শামসুর রাহমান, রফিক আজাদ, আবুল হাসান, সৈয়দ শামসুল হক এমনকি জীবনানন্দ দাশ সম্পর্কেও একই অভিযোগ উচ্চারিত হয়। অভিযোগ আছে হুমায়ুন আজাদের ‘নারী’ গ্রন্থ নিয়েও। শামসুর রাহমানের কবিতার সাথে রবার্ট ফ্রস্টের কবিতার মিল আছে। রফিক আজাদ ও আবুল হাসানের প্রতিই অভিযোগের তীর সবচেয়ে বেশি তীব্র। অন্যত্র লেখক উল্লেখ করেন- ‘কবি নির্মলেন্দু গুণ তো নিজেই লিখেছেন কবি আবুল হাসান ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন বলে অনেক কবিতা ইংরেজি কবিতাকে বাংলায় অনুবাদ করে নিজের বলে মেরে দিয়েছেন।’ (যদি এসব অভিযোগ অনেক আগে থেকে উত্থাপিত হচ্ছে। এবং কেউ তেমন একটা আমলে নেন না। কারণ সাহিত্যের ব্যাপারটাই হলো বিনির্মাণ। অন্য ভাষার সাহিত্য কিছুটা এদিক সেদিক করে নিজের সাহিত্য করে তোলার ব্যাপারটা ভীষণভাবে প্রচলিত। মূলত ‘নারী’ ও ‘কবি’র সম্পর্কের মধ্য দিয়ে বর্তমান অসহিষ্ণু অস্থির ও পরশ্রীকাতর সাহিত্য অঙ্গনের ছবিই নগ্নভাবে ফুটে ওঠে। কিন্তু একটা কথা লেখক যে কবি চরিত্র সৃষ্টি করেছেন, তা সর্বাংশে সম্পূর্ণ নয়। কারণ কবি মানেই ছন্নছাড়া, ঈর্ষাকাতর, দায়িত্বহীন ও পরশ্রীকাতর নয়। কবি একাধারে সৃষ্টিশীল, সাংসারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক মানুষও বটে। সবচেয়ে বড় কথা কবি স্পর্শকাতর ও সংবেদনশীল।

নারীর দ্বিতীয় পুরুষ একজন চিত্রশিল্পী। এই দু’জনের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে লেখক বাংলাদেশের চিত্রশিল্পের সাথে বিশ্ব চিত্রকলার পরিপ্রেক্ষিত বিশ্লেষণ করেছেন। আসলে একজন চিত্রশিল্পী যদি সাহিত্য, সমাজ, ধর্ম ও দর্শনকে অর্ন্তদৃষ্টি দিয়ে দেখার গুণ অর্জন না করেন তাহলে তার পক্ষে মহৎ চিত্রকর্ম সৃজন করা সম্ভব নয়। চিত্রশিল্পী নারীকে চিত্রকর্মের বিভিন্ন অনুষঙ্গ বোঝাতে গিয়ে লিউনার্দো দ্য ভিঞ্চি, সালভেদর এল দালি, পাবলো পিকাসো, মাইকেল এঞ্জেলো, সান্ড্রো বাতিচিল্লি, ভিনসেন্ট ভ্যানগগ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের জয়নুল আবেদিন, এসএম সুলতান, শাহাবুদ্দিন ও কাইয়ুম চৌধুরীর প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।

লেখক জন কেলিয়ারের ‘লিলিথ’ চিত্রকর্মের কথা উল্লেখ করে মানুষের সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে যে চিরায়ত প্রচলিত ধর্মীয় মিথ তার থেকে ভিন্নতর মিথের কথা উল্লেখ করেছেন। লিলিথের মিথ অনুযায়ী স্রষ্টা প্রথম আদমকে মাটি দিয়ে তৈরি করেন। কিছুদিন পর নিঃসঙ্গ আদমের সঙ্গী হিসেবে স্রষ্টা আবারও মাটি দিয়ে লিলিথ সৃষ্টি করেন। পরস্পর পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন। বিপত্তি বাধে অন্যত্র, অর্থাৎ আদম ও লিলিথ সঙ্গমের সময় কে কার উপর উপবেশন করবে। লিলিথ তার উপর আদমের কর্তৃত্ব অস্বীকার করে। আদম স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করলে, তার বাম পাঁজরের হাড় থেকে ইভ বা হাওয়ার সৃষ্টি হয়। হাওয়া আদমের প্রতি আনুগত্যপ্রবণ। অন্যদিকে লিলিথ নিজের অধিকার দাবি করায় স্রষ্টা তাকে ডাইনি আখ্যা দেয়।

নারীর তৃতীয় পুরুষ একজন নায়ক। ‘নারী’ ও নায়কের সম্পর্কের প্রসঙ্গক্রমে লেখক বাংলাদেশের চলচ্চিত্র-টিভি জগৎ, বেসরকারি চ্যানেলের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতির একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অনুকরণপ্রিয়তা বলিউড, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিল ছবির মৌলিকত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসন, পাইরেসির প্রবল হাওয়ার যুগেও মেধা ও মৌলিকত্ব দিয়ে চলচ্চিত্রের মতো একটি নান্দনিক গণমাধ্যমের যথাযথ ব্যবহার করা সম্ভব।

‘নারী’র চতুর্থ পুরুষ একজন গায়ক। এ দু’জনের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সঙ্গীত চর্চার স্বরূপ বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশের অধিকাংশ সঙ্গীত শিল্পীই বর্তমানে সঙ্গীত চর্চা করার চেয়ে সঙ্গীত ভিডিও, মডেলিং ও টিভি নাটক বানানোতেই ব্যস্ত। পাশাপাশি বর্তমানে ব্যান্ড সঙ্গীত নামে যে সঙ্গীত চর্চা, তার ক্ষণস্থায়ী আবেদনের কার্যকারণ ব্যাখ্যা করেছেন।

‘নারী’র পঞ্চম পুরুষ একজন রাজনীতিবিদ। মূলত লেখক বাংলাদেশের বর্তমান নীতিহীন রাজনীতির চালচ্চিত্র এঁকেছেন। রাজনৈতিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ ত্যাগী, নিবেদিত, দেশ ও জনগণের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ নেতা-কর্মীর চেয়ে সুবিধাবাদী নীতি নৈতিকতাহীন মানুষের গুরুত্ব এখন বেশি। ভূমি দখল, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ঘুষ, দুর্নীতি এখন রাজনীতির সমার্থক হয়ে উঠেছে।

উপন্যাসের ‘নারী’ একজন আধুনিক দ্রৌপদী। দ্রৌপদীর যেমন পাঁচ স্বামী ছিল তারও তেমন পাঁচ প্রেমিক। কিন্তু পার্থক্য আছে। মহাভারতে দ্রৌপদী পরিবারের আনুগত্য স্বীকার করতে যেয়ে পাঁচ স্বামীর ঘর করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ঈশ্বরের ‘নারী’ স্বামী কর্তৃক অপমানিত, লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত ছিল। ‘নারী’ তাই অন্তর্গত মুক্তির আশায় কিংবা প্রলোভনে পাঁচ পুরুষের সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। সম্পর্ক মানসিক অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে শরীর পর্যন্ত গড়ায়।

এদিকে নারী যে সামাজিক প্রেক্ষিত থেকে উঠে এসেছে তাও তার জন্য খুব স্বস্তিকর কিংবা সুখকর অতীত ছিল না। নারীর বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে তাকে নানা বাড়িতেই বেড়ে উঠতে হয়েছে। তার প্রতি মামাতো খালাতো ভাইদের কুদৃষ্টি ছিল। আমাদের সমাজ বাস্তবতায় এ ঘটনা খুব অবাস্তব তাও নয়। কিন্তু অত্যন্ত অস্বস্তিকর বিষয় ছিল যখন তার আপন নানা মাঝে মাঝে কচি বুকে হাত বুলিয়ে মাশাল্লাহ বলে উঠতেন। মূলত লেখক আমাদের পরিবার ও সমাজের গভীরে যে মারাত্মক পচন, পাপ বিস্তার করেছে তার নির্মম ছবি এঁকেছেন। নীতি, নৈতিকতা, বিশ্বাস কি পরিমাণ ভঙ্গুর সেই দৃশ্য তিনি দৃশ্যায়িত করেছেন।

‘নারী’ পাঁচ পুরুষের মধ্যেই তার জন্য প্রেম, স্নেহ ও দায়িত্বশীলতার আস্বাদ পেয়েছিল। এক সময় সে নির্মম সত্য আবিষ্কার করে। কেউ তাকে ভালোবাসে না। সবাই তার শরীরের স্বাদ নিতে আগ্রহী। কেউ তার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নয়। সবাই শুধুমাত্র দর্শন ও মুক্ত জীবনের ফাঁপা কথা বলে তাকে যথেচ্ছ ব্যবহার করতে চেয়েছে। শেষ পর্যন্ত আধুনিক দ্রৌপদী ‘নারী’ বেঁচে থাকার জন্য তার পায়ের নিচে কোন মাটি বা ভিত খুঁজে পায়নি।

ঈশ্বর উপন্যাসের লেখক মহিবুল প্রকরণগত দিক থেকে নতুন এক্সপেরিমেন্ট করেছেন। সম্পূর্ণ এক আঙ্গিকগত কৌশল অবলম্বন করে উপন্যাসের গঠন নির্মাণ করা হয়েছে। অবশ্য ভাষায় কোন বিশেষত্ব নেই। উপন্যাসে কোন চরিত্রের কোন নামকরণ করেননি। চরিত্রগুলোর নামকরণ না করার মধ্য দিয়ে বর্তমান সমাজের সর্বজনীন রূপ এঁকেছেন। একটি পুরুষতান্ত্রিক রাষ্ট্র বা সমাজে সকলেই নিজের ভেতর নিজেদের সৃষ্ট ঈশ্বর লালন করেন। নিজেদের ঈশ্বরের প্রতিভু মনে করে নারীকে তার আপন মহিমায় সৃষ্টি করেন। ঈশ্বরের সৃষ্টির ভিতর তাই লিলিথের জন্য কোন মমতা বা দায়িত্ববোধ থাকে না। থাকে শুধু তাকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করার উদগ্র বাসনা। তাই ঈশ্বর উপন্যাস হয়ে উঠেছে আধুনিক দ্রৌপদীর জীবনকথন। আধুনিক দ্রৌপদী হয়ে উঠবে মোহনীয়, কমনীয় ও আনুগত্যপ্রবণ। সে তার অধিকার নিয়ে মানুষ হয়ে উঠতে পারবে না। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে মহিবুল আলমের ঈশ্বর নারীকে অবদমনের কথা বলে। ধর্ম-দর্শন কিংবা রাজনীতি সবকিছু অন্তত এই একটি জায়গায় এক বিন্দুতে মিলে যায়।