• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৯ আশ্বিন ১৪২৬, ২৪ মহররম ১৪৪১

এ সংখ্যার কবিতা

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

তিনটি কবিতা

আনোয়ারা সৈয়দ হক http://print.thesangbad.net/images/2019/May/15May19/news/Untitled-3.jpg

তুমুল সিম্ফনি আজ

তুমুল সিম্ফনি আজ আকাশে বাতাসে

ঘোর অন্ধকারে যেন জোনাকির আলো

নিভে যাবো তবু রবো ঘ্রাণের সুবাসে

প্রেমের ঠুংরি নিয়ে বেসে যাবো ভালো

বৃষ্টির ছাঁটের নিচে মন দেয়া নেয়া

বুকের ভেতরে বুক থরো থারো কাঁপে

এভাবেই তুমি আমি প্রেম দেয়া নেয়া

অগাধ জলের নিচে তিমি মাছ ঝাঁপে।

ভুল অভিশাপে

কখনোই ভাবিনি তো তুমি চলে যাবে

অগাধ আঁধার খুঁড়ে ডুবে যাবে চাঁদ

বুভুক্ষু দানব আজ রক্ত চুষে খাবে

যেদিকে তাকাই শুধু চোখে পড়ে ফাঁদ।

তুমি কি আমারই নাকি অন্য কারো আজ

অন্য কারো বিছানায় খুলে রাখো সাজ

আমার বুকের খোলে ঝাউপাতা কাঁপে

আমাকে রেখো না আর ভুল অভিশাপে।

‘নীলক্ষা আকাশ’ নীলে

‘নীলক্ষা আকাশ’ নীলে পেয়ে গেছো নীড়

এদিকে বিরহী আমি ভুলে গেছি কাজ

দু’চোখের অশ্রুজলে ভাসমান তীর

কুটিরের তালগাছে পড়েছে যে বাজ।

তোমার বুকের ঘ্রাণে এখনো মাতাল

তোমার চুম্বনে আজও দিশেহারা হই

তোমার সুগন্ধে আজ ভরেছি চাতাল

‘পাকো রাবানেই’ তাই আচ্ছন্ন রই।

এভাবে জাগতে আজ যত নরনারী

গড়েছে প্রেমের নীড় পৃথিবীর বুকে

এভাবে জগতে আজ যত মহামারী

সবকিছু মুছে গেছে প্রেমের অসুখে!

* পাকো রাবান পুরুষ ব্যবহৃত একটি বিদেশী আফটার শেভ

চিরদিন ২১

অপরাহ্ণ সুসমিতো

মিশরের একটা লাইব্রেরির খোঁজ করছিলাম গুগলে, আমি ভুল করে তোমার নাম টাইপ করে ফেললাম, আলেকজান্দ্রিয়ার বইয়ের ঘ্রাণ নিয়ে তুমি আমার সামনে ক্যাটওয়াক করলে।

গটগট করে হেঁটে একটা কফিশপে ঢুকলে, তোমার ব্যাগভর্তি কবিতা, তোমার চিবুক দীর্ঘ অণুগল্প মেঘ বাণ।

তুমি কী!

এত বাতাস পোকা তোমার চুলে খেলে উড়ে উড়ে যায় প্রাচীন সভ্য পলেস্তারে

আমি ব্যাগ থেকে কলম আর নোট বের করে বসে যাই পড়ার শৌখিন টেবিলে

ডলফিন পোনার মতো গুগলে ভেসে ওঠে আমার স্ক্রিনে তোমার বই মাখা নাম

আমি তোমার নাম লিখে ফেলি।

দ্যাখো আমি লিখতে পারছি।

নোটপ্যাড ব্যাগে রাখতে ব্যাগ তোমার নামের সাথে হ্যান্ডশেক করল।

তোমার জিন্সের প্রশংসা করল, তোমাকে চিমটি দিতে চাইল।

তুমি হা রে রে রে রে করে সরে দাঁড়ালে।

আমি হেসে দিতে তোমার নাম আমার দিকে কটমট করল। আমি তোমাকে, তোমার নামকে মুখস্থ করে ফেললাম।

বিকেলটা মুখ গোল করে বোতল থেকে এক ঢোক পানি খেলো। অসাবধানে এক ঝলক পানি পড়ে গেল তোমার জিন্সে...

আমি ও গুগল যুগপৎ দেখলাম তুমি খানিক ভেজা।

তোমার নামটা বই পড়তে চাইল না এ রকম রুমাল চোর বা চোর পুলিশ খেলার মতো সন্ধ্যায়।

তোমার কুটাকুটা নামটা স্ক্রিন, নোটপ্যাড থেকে টুপ করে লাফ দিয়ে আমার চোখের পাতায় এসে বসে রইল।

আয় না। চোখের পাতা থেকে লাফ দিয়ে এবার নাকের ডগায় এসে বোস। চোখের পাতায় বসে থাকলে কি দেখা যায়?

ঘ্রাণ হোক তবু!

আয়না

সুবর্ণ আদিত্য

মেয়েটি এগারো বছর বয়সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বুঝে গেল যে, সে সুন্দরী

পরবর্তী এগারো বছরে সে তীব্র রুপসী হলো

তার পরবর্তী আট বছরে সে বুঝে গেল তার সুন্দরী

হওয়াটা ভুল ছিল-

সে আবার আয়নার সামনে দাঁড়ালো

আয়না কখনো মিথ্যে বলে না

প্রতিস্রোত

মনিরুল মোমেন

‘শালুক’ ও এর লেখকগণের উদ্দেশ্যে

আমাদের নৌকাগুলো স্রোতের উজানে

চলতে শিখেছে কুড়ি বছর আগেই।

গাঙপাখিরা পৌষের বৃষ্টি ঝরালে

প্রসব ব্যথার মতো টনটন করে ঢেউয়ের নাভি,

পেছনে অবিরাম বুদ্বুদ!

কবেকার ফেলে দেয়া মরচে পড়া বেলুন যেন

ভেসে ওঠে বৈঠার কিনারে।

আমাদের নৌকাগুলো কংক্রিটের সড়ক তৈরি করেছে

শত বছরের স্রোতের শরীরে;

চাকা লাগানো গাড়ির মতো অবিরাম ছুটে চলছে

আতরের ঘ্রাণমাখা ভোরবেলায়,

জলের করাতে জল কেটে কেটে

উত্তরাধুনিকতার বসতবাড়ি বানিয়েছে পাতালে।

বাতাসের এনাটমি পাঠ করে মধ্যাকর্ষণে খুলেছে

বোধের ক্লিনিক।

শালুকের পাতায় অজস্র ফটোকাব্য রেখে

সোমত্ত মাঝিরা এখন উড়ালজলে ভেজে।

মনোগত

অনুপমা অপরাজিতা

গোপন রোগের মত কিছু বয়ান

পেশ করা যায় না।

অন্তত সংখ্যালঘুরা তো পারেই না!

সে সংখ্যালঘু হতে পারে নারীকুল

জীবনমঞ্চে যত বেশি

পারফেকশন দেখাতে অভ্যস্ত

নাটকীয়ভাবে তত বেশি সফল মিথ হয়ে পড়ে

জীবন গাথা! অলিখিত ম্যাজিকপর্দার আড়ালে

ঢেকে যায় মনোগত জগৎ। মুক্তির আকাশে

পা বাড়ালেই ফতোয়াবাজের রক্তচক্ষুর লালে

ভেসে যায় আত্মার ইতিহাস। ডানা ভেঙে পড়ে

তীর বেঁধা আহত পাখির মতোন। হরিণের লাফ কিংবা

প্রজাপতির রংমাখা সব মানা সব না না!

তুমি নারী না মানুষ! কখনো মৃদঙ্গ বা দোতারা

কখনো একথালা ধোঁয়াওঠা গরমভাত।

এই সময়ে তুমি

মাহমুদ আল জামানhttp://print.thesangbad.net/images/2019/May/15May19/news/Untitled-4.jpg

এই সময়ে তুমি বড় বেশি মোহাচ্ছন্ন

তোমাকে আর খুঁজে পাই না তোমার অবয়বে

মুখ ঢেকে কেন চলে যাও নিরুদ্দেশে

বড় ভাল বেসে ছিলাম গ্রহণকালে

মনে পড়ে, মিছিলের দিনগুলি, রাতগুলি

কার্ফু ভাঙার সময় তোমাকে ঢেকে দিয়েছিল

শতাব্দীর প্রাচীন স্তব্ধতা।

কিন্তু ভেঙেছিলে কর্ডন, বাঁধ ভেঙে দিগন্তহারা

মানুষ রাস্তায় উদ্বেল হয়ে উঠেছিল সেদিন

কারাগারের বন্দী মানুষগুলোর জন্য

মিছিলের চোখ, উত্তেলিত হাত

কী বিপুল বিস্তারে

বলেছিল, বন্দী জেগে থাকো

এই আসছি

ঝাঁপ দিয়েছিলাম কার্ফুর মধ্যে এক সঙ্গে ভিন্ন রাস্তায়

সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মত রাস্তাই হয়ে উঠেছিল রাস্তা

বারুদের গন্ধে তোমার হাত

হয়ে উঠেছিল

আরেক হাত।

জলের সজলতা

আর ছেড়ে যাইনি কোনদিন তোমাকে

সবিতা, সেদিন অন্ধকারে, অন্ধকারে

মেঘ ছেয়েছিল

আকাশে

সবিতা, বড় বেশি নিশ্চিত ছিলাম তবুও

ছিলাম যৌবনের তেজদীপ্ত পদক্ষেপে উজ্জ্বল

সবিতা, সেই সময়ে ভিয়েতনামে

মার্কিন বোমারু বিমান থেকে

বর্ষিত নাপাম বোমা ছারখার করে দিয়েছিল

গ্রাম

জনপদ

সেতু

ভুবন জুড়ে যুবক যুবতীর প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে

পুড়ছিল মার্কিন পতাকা

আর ফ্রান্সের যুব বিদ্রোহ ভিন্ন স্বপ্নে

উত্তাল করে দিয়েছিল সমগ্র পৃথিবীকে

সার্ত্র-সিমোন যখন প্যারিসের রাস্তায় রাস্তায়

ইশতেহার বিলি করছিলেন

তখন

সৌন্দর্যের

প্রতিমা

আর প্রণয়ের গভীরতা অধীর করে দিয়েছিল তোমাকে।

তরাই আর গোপীবল্লভপুরে শত সহস্র

সাঁওতাল রমনী

তীর আর ধনুক হাতে

দিগন্ত থেকে দিগন্তে

মুক্তির স্বাদ এনে দেবে বলে মৃদঙ্গে মৃদঙ্গে

নতুন বোল তুলে

নেচে উঠেছিল

কত না

শুচি শুভ্র

ছিল

তোমার

চঞ্চল

হৃদয়

তোমাকে খুঁজে পাই না এখন জনারণ্যে, কোন মিছিলে

তবুও

অশান্ত হৃদয়ে

হাঁটছি

শহরের অলিগলি।

যদি সেদিনগুলি স্মৃতির মেদুর ছায়ায়ও

ফিরে আসে, ব্যাকুল ডাকে যদি পাই সাড়া;

যদি তোমাকে পাই

যদি মুখোশ সরে যায়

যদি আবার জেগে উঠি

শুচি শুভ্র

মানুষটিকে

যদি ফের পাই

কোন সেবাসদনে, আশ্রমে বা অভ্যুনিউতে