• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৫, ২২ শাওয়াল ১৪৪০

অসম্পূর্ণ গল্প (পর্ব ৩)

মুজতাবা শফিক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

image

শিল্পী : সঞ্জয় দে রিপন

(পূর্ব প্রকাশের পর)

পঞ্চম অধ্যয়

লোকটাকে বুকের উপর থেকে ঠেলে উঠায় নাইমুন। সুযোগ পেয়ে নরম বুকের উপর হামলে পড়েছে লোকটা। কিছুমাত্র সভ্যতা ভব্যতার লেশমাত্র নাই। বন্ধ ঘর পেলেই এরা মেয়েদের উপর পশুর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। লোকটাকে এতক্ষণে ভালো করে দেখে নাইমুন! পশুই একটা! ঠিক কি পশু হতে পারে ভাবার চেষ্টা করে নাইমুন। ভাল্লুক কি? এটা একটা মজার খেলা! সব মানুষের মাঝেই কোন না কোন পশুর মিল খুঁজে পায় নাইমুন। এই লোকটা দেখতে ভাল্লুক এর মতো। কিন্তু ভাল্লুক তো টেকো হয় না! মনে মনে ভাবে নাইমুন! যাই হোক, সেই টেকো ভাল্লুক লোকটা আবার এসে গায়ে উঠে পড়ার চেষ্টা করছে!

-ধুর! তুমি আগে কিছু খাবার অর্ডার দাও তো! খুব ক্ষিদে পেয়েছে আমার! ওসব পরে হবে!

আদুরে গলায় বলে নাইমুন! হতবিহ্বল হয়ে পড়ে লোকটা!

-কী খাবে! আহা আগে বলবে না!

নাইমুন জানে লোকটা এখন টাকার হিসাব করছে! ভাবছে, এটা তো হিসাবের মধ্যে ছিলো না! কোন এক কোম্পানির এম ডি! নাইমুন জানে কালকে এই লোকের অফিসে ঢুকতে চাইলে ঢুকতে পারবে না! এরা এরকমই। এদেরকে হাতের তালুর মতো চিনে নাইমুন!

-আমি স্টেক খাবো সাথে ম্যাশ পোটেটো! তুমি?

গুলশানের এই পাঁচতারা হোটেলগুলো সব চেনা হয়ে গেছে নাইমুনের। কোন হোটেলে কী ভালো পাওয়া যায় সব তার জানা!

-আর শোনো, আজ কিন্তু একদম ওসবে মুড নেই! জোর করবে না প্লীজ! তুমি না আমাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাবে তোমার কনফারেন্সে! তখন দেখা যাবে!

নাইমুন টোপ ফেলে! লোকটা অনেক্ষণ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। ভাবটা এরকম, “মাগী, তাইলে এখন কি জন্য আসলি! এতো টাকা আর সময় নষ্ট করলি কেন!”

-অবশ্যই যাবে তুমি! কিন্তু এর আগে একবার না বললে তোমার মেয়ের পরীক্ষা! বলে লোকটা।

-পরীক্ষা ছিলো, এখন তো শেষ! নেবে কি না বলো!

লোকটা কাপড়টা খুলবে কি খুলবে না চিন্তা করে! লোকটার চোখের ভাষা পড়তে সময় লাগে না নাইমুনের! ব্যাগ থেকে একটা নেল কাটার বের করে এগিয়ে দেয়! গলাটাকে আরো আদুরে করে বলে,

-তার চেয়ে তুমি আমার নখগুলো কেটে দাও না জান! দেখো প্যাডিকিউর করার সময় পাচ্ছি না!

ঠিক কতখানি ভ্রু বাঁকালে আর কতটুকু মুচকি হাসলে পুরুষ মানুষকে দিয়ে যা খুশি করানো যায়, জানে নাইমুন! এসব তাকে কেউ শিখিয়ে দেয়নি! সময়ের প্রয়োজনে শিখে নিতে হয়েছে। নাইমুনের ঠোঁটের গারো লিপস্টিকের ফাঁকে একসারি সাদা দাঁতের ঝিলিক খেলে যায়! এবং অবাক করে দিয়ে লোকটা নাইমুনের পা নিয়ে বসে পড়ে। ভাবখানা এমন, বিরাট এক বিজনেস এসাইনমেন্ট পাওয়া গেছে! এবার খিল খিল করে হেসে উঠে নাইমুন।

এই লোকের মেয়ের বিয়েতে কয়েক দিন আগে গিয়েছিলো নাইমুন! বউটা এমন তাচ্ছিল্যভরে তাকাচ্ছিলো নাইমুনের দিকে, যেনো সে একটা অচ্ছুৎ! আজকের এই দৃশ্যটা যদি তাকে দেখানো যেতো! নাহ, এসব কাউকে দেখানো যায় না! বলাও যায় না! এটা একান্তই নাইমুনের নিজস্ব জীবন! যেখানে কারো প্রবেশ অধিকার নেই।

এমন একটা জীবন কি চেয়েছিলো নাইমুন! সে কি ব্যাভিচারিণী! দ্বিচারিণী! নিজেকে এভাবে নীচে নামাতে নারাজ নাইমুন! সে শুধুমাত্র সুখী হতে চেয়েছিলো! সুখী হবার জন্য যা কিছু উপাদান সব তার চাই। ভালো একটা থাকার জায়গা, বাচ্চার জন্য ভালো স্কুল, হাত খরচ, দুয়েকবার বিদেশে ঘুরতে যাওয়া! এই তো চেয়েছিলো সে! খুব বেশি কি! তার মতো একটা মেয়ের কি এতটুকু পাবার অধিকার নেই!

মুমিনও নাইমুনকে এতটা নিচে নামাতে চায় না! কিন্তু নাইমুনের ব্যবহারিক জীবনের কোনো হিসাব সে মিলাতে পারে না! নাইমুনের গাড়ি কোথা থেকে এলো বা গাড়ির খরচ, ড্রাইভারের বেতন কোথা থেকে আসে, সে জানে না! তাদের মেয়ে অনন্যার দামী স্কুলের ফী, বিদেশে বেড়ানো; কীভাবে এসব হয়! একজন বেসরকারী দ্বিতীয় সারির কর্মকর্তার কি এতো বেতন হয়! জানে না! কখনো জানতে চায় নি মুমিন। চাইলেও নাইমুন হয়ত উত্তর দিতো না! ধীরে ধীরে নাইমুন তার নরম মনটাকে শক্ত খোলসে পুরে ফেলেছে! যা ভেদ করা এখন অসম্ভব। ঠিক কবে থেকে এটা শুরু হলো এখন মনে পড়ছে মুমিনের। অনন্যার যখন তিন কি চার বছর, নাইমুন তার স্কুল ঠিক করে। নাইমুনের ইচ্ছা মেয়েকে দামী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করাবে। যেদিন স্কুলে ভর্তি করার কথা; মুমিন জানলো তার নামে মামলা হয়েছে! সেদিন আর বাসায় ফিরেনি মুমিন। পরদিন নাইমুন কিছু জিজ্ঞেস করেনি! একটি বাক্যও নয়! সে কোথা থেকে সব জেনে গেলো মুমিন জানে না! শুধু টের পায় তার আর নাইমুনের মাঝে যোজন যোজন দূরত্ব! নাইমুন কীভাবে চাকরি যোগাড় করে মুমিন জানে না! মেয়ের স্কুলে ভর্তি হবার টাকা কোথা থেকে আসে মুমিন জানে না। মুমিন এরপর থেকে কিছুই আর জানতে পারে না!

নাইমুনের সাথে তার বিয়েটা একটা সামাজিক বিপর্যয় ছাড়া আর কিছু নয়, ভাবে মুমিন! হয়তো সে, এই সমাজের জন্য, এই সময়ের জন্য একজন সম্পূর্ণ অযোগ্য মানুষ। বিধাতা তার কপালে বড় করে লিখে রেখেছেন- ‘অপদার্থ’! মুমিন কোনদিন তা দেখতে পায় নি! এই সমাজের প্রতি চরম ঔদাসীন্য রেখে এই সমাজেই এতদিন থেকে গেছে মুমিন!

ষষ্ঠ অধ্যয়

রিকশাওয়ালার নাম মজিদ মিয়া।

-ভাইজান, আমার মনে করেন, সারা জীবনের সব কামাই আমি খরচ কইরালচি, পোলাডার পিছন। এই ভার্সিটি ত পড়াই চি। এহন হেই পোলা আমার চাকরি করে। আবার বিয়াও দিসি। কিন্তুক আমাগো লগে আর সম্পর্ক রাখে না! আমি কই কি, ঠিক আছে তুই খরচ পাতি দিবি না- কিন্তু বাড়িত আয়। মায়ের লগে দেহা কর! বুইন দুইডারে দেইখা যা! না, হে আর আইলো না!

প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে রিকশায় করে ভার্সিটি এলাকা ঘুরছে মুমিন। যেই সব হলে চাচ্চুর থাকার সম্ভাবনা ছিলো, সবগুলো প্রায় দেখা হয়ে গেছে। চাচ্চুর কোনো পাত্তা নেই। লাভের লাভ যেটা হচ্ছে, তা হলো এই মজিদ মিয়ার ভ্যাজর ভ্যাজর শুনতে হচ্ছে! এক ঘণ্টায় মজিদ মিয়ার পুরো জীবন কাহিনি শোনা হয়ে গেছে। মজিদ মিয়ার তিন ছেলে মেয়ে, বড়টা ছেলে আর ছোট দুটো মেয়ে। বড় ছেলেকে মজিদ মিয়া পড়াশোনা করিয়েছেন। এবং সেই ছেলে সফলতার সাথে ভার্সিটি থেকে পাস করে এখন চাকরি বাকরি করছে! কিন্তু কাহিনির ট্র্যাজিক অংশটা হলো সেই ছেলে এখন আর পরিবারের সাথে সম্পর্ক রাখে না! আরো কিছু ডিটেইলস আছে যেমন মজিদ মিয়া আগে কোন বস্তিতে ছিলো, এখন সেই বস্তি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে এখন মজিদ মিয়া তার পরিবার নিয়ে কোথায় যাবে, কোথায় থাকবে ইত্যাদি ইত্যাদি! যাইহোক গল্পের প্রথম অংশটা মুমিনকে কিছুটা টানে। মজিদ মিয়া এবং মুমিন দুজনেই এই সমাজের প্রতারণার শিকার! বঞ্চিত জন! এখন মজিদ মিয়ার ঠিক কি করা উচিত? মজিদ মিয়ার কি সামাজিক প্রতারণার প্রতিশোধ নেয়া উচিত? মুমিন ভাবে! মুমিন প্রাকৃতিক ভারসাম্যে বিশ্বাস করে। তার মনে হয়, সব কিছুর একটা ভারসাম্য থাকা দরকার। নাইলে উত্তরের বরফ গলবে, পৃথিবী আরো উষ্ণ হয়ে উঠবে। মুমিন আরো বিশ^াস করে মৃত্যুর মধ্যে দিয়েই সব কিছু শেষ হয়ে যায় না। এরপরেও কিছু আছে! কী সেটা? মুমিনেরন জানা নেই। কিন্তু এই ভারসাম্য, এই সামাজিক প্রতিশোধ নেবার দায়িত্ব তাকে কে দিলো! সে কি তাহলে একজন অপরাধী নয়! হতে পারে আবার নাও হতে পারে! অপরাধীর সংজ্ঞা তো সমাজ তৈরি করেছে, সে নয়, মুমিন ভাবে!

হলের দারোয়ানের কথায় মুমিনের ঘোর কাটে!

-মুমিন ভাই কি আমারে চিনছেন! আমি বাদল!

মুমিনের চেহারাটা মোটেও চেনা মনে হয় না। মানুষের কোন কর্মকান্ডেই মুমিনের কোন উৎসাহ নাই। নাম আর চেহারা মনে রাখার তো কোন মানেই হয় না। তারপরও বাদলের সাথে কস্মিনকালে তার দেখা হয়েছিলো কিনা, মনে করার চেষ্টা করে মুমিন। নাহ, মনে পড়ছে না! মুমিন বেকুবের মতো হাসে! অস্ফুট স্বরে বলে,

-চিনছি! ভালো বাদল ভাই?

স্যুটকেসটা দেখতে দেখতে বাদল বলে,

-আপনে আগের মতো আছেন মুমিন ভাই। খালি একটু বুড়া লাগে। এইদিকে তো আর আসেন না! আদনান ভাইরে খুঁজেন কেন? হলে সিট লাগবো নি!

বাদল কি আবার কোন সন্দেহ করছে নাকি! মুমিনের এখন মনে হচ্ছে, স্যুটকেসটা থেকে গন্ধ বের হচ্ছে। এটা কি মুমিনের কল্পনা নাকি আসলেই বাস্তব, পরীক্ষা করার কোন উপায় নাই।

-না না সিট লাগবো না। এই স্যুটকেসটা আদনান কে পৌঁছে দিতে হবে। এই জন্য খুঁজি!

বাদল হঠাৎ দুই পা এগিয়ে আসে। একদম মুমিনের কাছে এসে কানের কাছে মুখ নিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলে,

-আদনান ভাই যে মারা গ্যাসে জানেন না কিছু! একবছর আগে মারা গ্যাসে। প্যাপারে দিসে! টিভিতে দেখাইছে!

মুমিন ঢোক গিলে। তার বন্ধু আদনান ওরফে চাচ্চু মারা গেছে, সে জানেনই না! অতিকষ্টে মুমিন বলে,

-কীভাবে মারা গেলো?

-পুলিশের গুলিতে!

বাদল এইবার সন্দেহের দৃষ্টিতে ব্যাগটা দেখে! একবছর পর আদনানের কোন ব্যাগ আবার মুমিন নিয়ে আসল। ভাবে সে! গলাটাকে আগের চেয়ে আরো ঘন করে বাদল বলে যায়,

-না মাইরা উপায় ছিলো না মুমিন ভাই। এই এলাকা মনে করেন পুরাটাই সে চালাইতো! ডাইল, ইয়াবা, হেরোইন, গাঞ্জা সব! একদিন পুলিশের লগে বাধসে! ব্যাস, দিসে উড়ায়া!

-আফনার স্যুটকেসে কি! বাদল উৎসুক হয়ে ওঠে!

-এই পুরনো কিছু জিনিস পত্তর। ঠিক আছে, আদনান যখন নাই, আমি ওর বাসায় দিয়ে আসবো!

-মজিদ মিয়া, রিকশা ঘুরান! মুমিন কাতর স্বরে বলে।

দ্রুত বেরিয়ে আসে মুমিন হলের কম্পাউন্ড ছেড়ে! তার বন্ধু চাচ্চু একবছর হল মারা গেছে অথচ সে জানে না! কী আজব! পেপার সে পড়ে না। টিভির সামনে বসার সুযোগ হয় না। কিন্তু তাই বলে সে জানতেও পারলো না খবরটা! নাইমুনের সাথে বিয়ের পর শেষ একবার দেখা হয়েছে চাচ্চুর সাথে। টিএসসির সামনে বসে আছে নাইমুন আর মুমিন। টুকটাক গল্প আর চা খাওয়া! কি একটা কথা বলে নাইমুন হেসে গলে পড়ে যাচ্ছে! মুগ্ধ হয়ে তাই দেখছিলো মুমিন! ঠিক সেই মুহূর্তে কাঁধের উপর হাত,

-প্রেম করছিস আমারে একবার জানাইলি না!

মুমিন পিছনে তাকিয়ে দেখে চাচ্চু!

-আমার বউ। ইতস্তত করে জানায় মুমিন!

-কি তুই আমারে বিয়ার খবরটা জানাইলি না!

-হঠাৎ বিয়া করছি! লাজুক হেসে জানায় মুমিন!

এরপর চাচ্চু শুরু করে নাইমুনের সাথে,

-ভাবী আজকেই যাবো আপনার বাসায়। যা আছে রেঁধে খাওয়াতে হবে! শাস্তি। না জানায়ে বিয়ে করছেন! কাফফারা দিতে হবে।

-অবশ্যই ভাইয়া! আমার কোনও আপত্তি নেই! হাসে নাইমুন।

ভালই লাগছিলো মুমিনের কাছে। বন্ধুর পতœীভাগ্য দেখে একধরনের ঈর্ষার ছটা বের হচ্ছিল চাচ্চুর চেহারায়! সেটা উপভোগ করে মুমিন। এই প্রথম তার মনে হয়, দামী কিছু তার কাছে আছে যা অন্য সবার কাছে নেই!

রিকশাওয়ালা মজিদ মিয়া জিজ্ঞেস করে,

-এখন কই যাইবেন স্যার!

-মতিঝিলের দিকে যাও!

রিকশাওয়ালা মজিদ মিয়া মনে হয় অপ্রফেশনাল একজন রিকশাওয়ালা! রিকশা চালাতে পারলেই সে খুশি। দামদস্তুরের প্রতি তার তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না! এই ভার্সিটি এলাকার প্রতিটা কোনায় ছড়িয়ে আছে নাইমুনের স্মৃতি। নাইমুনের হাসি, দুষ্টু চাহনী, ঠোঁটের উপর ঘাম, মুখের উপর উড়ে আসা চুল হঠাৎ জড়িয়ে ধরা, ভীরু চুম্বন আরো কত কী! যেই দিন দেখা হতো কিছু না কিছু চাইত মুমিন। হয় চুলের কাটা, না হয় শাড়ির একটা সেপ্টিপিন! দিতেই হবে মুমিনকে! নাইমুন কপট রেগে বলতো

-সেপ্টিপিন দিয়ে তুমি কী করবা! তুমি মেয়ে? তোমার সেপ্টিপিন লাগে?

-রাখবো। তোমার স্মৃতি।

-আমার ব্যাগে স্যনিটারি প্যাক আছে! নিবি? নাইমুন মিটিমিটি হাসে!

মাঝে মাঝে নাইমুন তুই তোকারি করে! খুব মিষ্টি লাগে তখন! মানুষের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন করে সময়ের সাথে পাল্টে যায়, ভাবে মুমিন! নাইমুনের সব কিছু, সব কিছু একসময় মুমিনের ভালো লাগতো! রাতে নাইমুনের সাথে জড়িয়ে শুয়ে থাকলে মনে হতো সে একটা অপুষ্ট লাউয়ের ডগা মাত্র। অসহায়ের মতো নাইমুনকে জড়িয়ে আছে। আর তারপরে, সেপারেশনের কিছুদিন আগেও নাইমুনের সাথে বিছানায় শুয়ে মনে হয়েছে, সে এক ভয়ংকর পাইথনের সাথে শুয়ে আছে। এক্ষুনি পাইথনের মুখটা খুলে যাবে! খুলে পাইথনের মুখটা আরো বড় হয়ে যাবে আর তাকে মাথা থেকে গিলতে থাকবে। ধীরে ধীরে, অতি ধীরে গিলে ফেলবে তার পুরো শরীরটা! নাইমুন ঘুমিয়ে গেলেও মুমিন ঘুমাতে পারতো না!

তার মনে হতো সাপটার গলা চেপে ধরি!

মুমিন ভাবে, তখন কি জানত নাইমুনের স্মৃতি এভাবে স্যুটকেসে বন্দি হয়ে যাবে! স্যুটকেসটা নিয়ে একদিন নাইমুন তার বাসায় এসে দাঁড়িয়েছিলো। শুধু এই একটি মাত্র স্যুটকেস। মুমিনের আজো মনে পড়ে! মুমিনের তখন মনে হয়েছিলো পৃথিবীর যা কিছু ভালো অবশিষ্ট আছে তার সব লুকিয়ে আছে এই স্যুটকেসে। প্যান্ডোরার বাক্সের মতো খুললে একে একে বের হয়ে আসবে সব! হলো কই? (চলবে)