• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২০, ১৩ চৈত্র ১৪২৬, ২৭ রজব সানি ১৪৪১

প্রথম পৃষ্ঠা 'প্রথম পৃষ্ঠা' এর সব খবর দেখুন

  • করোনাযুদ্ধে স্বেচ্ছাবন্দী মানুষ থমকে আছে সারাদেশ রাজধানীর সড়কগুলো সুনসান নিজস্ব বার্তা পরিবেশক বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে জনগণকে ঘরে থাকার আহ্বানে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। সব শ্রেণী- পেশার মানুষ নিজ থেকেই ঘরে স্বেচ্ছাবন্দী হয়ে আছেন। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে শহর-গ্রাম নির্বিশেষে মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছেন না। গতকাল স্বাধীনতা দিবসেও কেউ বাড়ির বাইরে আসেননি, কোন আনুষ্ঠানিকতাও হয়নি। থমকে আছে যেন সারাদেশ। গত বুধবার স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিকে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনার করে বলেছেন, সবাই যার যার ঘরে থাকুন, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন। প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারাদেশের মানুষ গতকাল থেকে যার যার ঘরে অবস্থান নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এমন পরিস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকার রাজপথ থেকে অলিগলি- সব সড়ক-মহাসড়ক পুরোপুরি ফাঁকা প্রায় শুনশান। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বেরুচ্ছেন না। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা ছাড়া পারতপক্ষে মানুষ রাস্তায় নামেননি। অ্যাম্বুলেন্স, কিছু প্রাইভেট কার মাঝে মাঝে দেখা গেছে নগরীতে ছিল রিকশা ও কিছু মানুষ। মানুষের অহেতুক রাস্তায় ঘোরাঘুরি বন্ধে তৎপর ছিল আইন শৃঙ্খলাবাহিনীও। অপ্রয়োজনে রাস্তায় বের হলেই পড়তে হচ্ছে পুলিশের সামনে মৃদু পিটুনির খবরও পাওয়া গেছে। বৈশ্বিক মহামারী রূপ পাওয়া কোভিড-১৯ প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশ লকডাউন ঘোষণার পর বাংলাদেশের এর সংক্রমণ এড়াতে আগেই বন্ধ করা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরপর আক্রান্তর সংখ্যা বাড়তে থাকলে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বিপণিবিতান এবং গণপরিবহন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে কাজ করছে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও। কোভিড-১৯ এ ইতোমধ্যে বাংলাদেশে মারা গেছেন পাঁচজন, আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪। অত্যন্ত ছোঁয়াচে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে জনসমাগম এড়ানোর পরামর্শও বিভিন্ন স্থানে মেনে চলছেন সাধারণ মানুষ। সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্বেচ্ছাবন্দী থাকতে মানুষের মধ্যে বেশ সচেতনতাও দেখা গেছে। বাজারে নিত্যপণ্য আর ওষুধে দোকান আর রাস্তার পাশে মাছের দোকানে ক্রেতাদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করার প্রবণতাও দেখা যায়। তবে কেউ স্বেচ্ছাবন্দী না থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। ডিএমপি’র জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (পেট্রোল) মো. সানোয়ার হোসনে জানিয়েছেন, এ সময় অপ্রয়োজনে কাউকে ঘোরাফেরা করতে দেখলেই তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। অপ্রয়োজনে কেউ ঘোরাঘুরি করছেন মনে হলেই পুলিশ তাকে ধাওয়া দিচ্ছেন, আবার কাউকে ধরতে পারলে হালকা পিটুনি দিতেও দেখা যায়। এদিকে স্বেচ্ছাবন্দী থাকার কারণে স্বল্প আয়ের মানুষের কিছু অসুবিধাও হচ্ছে। যদিও সরকার এ ব্যাপারে বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। মালিবাগ রেল গেটের কাছে বস্তির বাসিন্দা ঠেলাচালক সোনা মিয়া বলেন, সব কিছু স্যার ব্লক হয়ে গেছে। এভাবে ছোট্ট রুমে কতক্ষণ বসে থাকা যায়। এখন বেলা ১১টা বাজে। দুইবার রেল গেটের কাছে গেলাম। কোন মানুষজন দেখিনি। কিভাবে দিন যাবে জানি না। এই অবস্থা চললে কীভাবে আমরা ঢাকায় থাকব? বাস বন্ধ না থাকলে ঢাকার বাইরে চলে যেতাম, কিন্তু সেই উপায়ও নেই। মগবাজার মোড়ে সকাল ৬টা থেকে বসে থেকেও একজন যাত্রীও পাননি রিকশাচালক রহিম উদ্দিন। মগবাজার থেকে মালিবাগ মোড়ে কত ভাড়া জানতে চাইলে রহিম বলেন, ২০/২৫ টাকা দিয়েন। অথচ চারদিন আগেও রহিম এই দূরত্বে ৪০ টাকায় যাত্রী নিয়েছেন। নয়া পল্টনের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী আবদুল জলিলের চোখে পরিস্থিতি অনেকটা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের মতো। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রের পরের দিনও এমন আমি দেখিনি। ঢাকাকে এখন নিঝুম ভুতড়ে শহর মনে হচ্ছে। ২৫ মার্চের কালরাত্রের পর যেভাবে শহর ছেড়ে মানুষ চলে গেছে গ্রামে, এখন অনেকটা তেমনই। কাকরাইলের মোড়ের কাছে একটি ভবনের নিরাপত্তকর্মী আমানউল্লাহ জানান, সশস্ত্র বাহিনী নেমেছে বলে রাস্তা-ঘাটে মানুষজন নেই, সবাই ভয়ের মধ্যে আছে। বাড়ির মালিক বলে দিয়েছে ভাড়াটিয়ারা বাড়ির বাইরে যেতে পারবেন না। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ ও নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় জনশূন্য দেখা গেছে। আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে নিরাপত্তা কর্মীরা থাকলেও বিএনপির কার্যালয়ের গেট বন্ধ। মানুষকে ঘরে রাখার চেষ্টায় পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দুইজনকে এক সঙ্গে ঘুরতে এবং প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হচ্ছে। রমনা বিভাগের পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবদুল্লাহেল কাফি বলেন, দুইজনকে এক সঙ্গে ঘোরাফেরা করতে নিষেধ করা হচ্ছে। পুলিশের প্রত্যেকটা ডিউটিরত গাড়ি থেকে এই মেসেজ দেয়া হচ্ছে। নিত্যপণ্য ছাড়া আর কোন দোকান খোলা রাখা যাবে না এই বার্তাও দেয়া হচ্ছে। সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস-মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম জানান, গতকাল একটি বাসও ছাড়া হয়নি। রাস্তাঘাতে কোন লোকজন নেই। এমন পরিবেশ আর কখনও হয়নি। আমাদের টার্মিনালের শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছে।

    থমকে আছে সারাদেশ

    রাজধানীর সড়কগুলো সুনসান

    newsimage

    বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে জনগণকে ঘরে থাকার আহ্বানে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।

  • দেশে আক্রান্ত নতুন আরও ৫ জন সুস্থ হয়েছে ১১ জন

    বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসে দেশে নতুন করে আরও পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে ভাইরাসটিতে

বিদেশ 'বিদেশ' এর সব খবর দেখুন

দেশ 'দেশ' এর সব খবর দেখুন

শিল্প ও বাণিজ্য 'শিল্প ও বাণিজ্য' এর সব খবর দেখুন

তথ্যপ্রযুক্তি

বিনোদন 'বিনোদন' এর সব খবর দেখুন

শেষ পৃষ্ঠা 'শেষ পৃষ্ঠা' এর সব খবর দেখুন

সম্পাদকীয়

শুধু ঢাকায় নয় দেশের অন্যত্রও করোনা পরীক্ষা এবং টেস্টিং কিট দ্রুত সরবরাহ করুন

দেশের মফস্বল শহরগুলোতে করোনা পরীক্ষার কোন সুযোগ নেই বলে জানা গেছে। হাসপাতালগুলোতে

উপ সম্পাদকীয়

বঙ্গবন্ধু ছিলেন অসাধারণ প্রজ্ঞাবান নেতা

ড. আনু মাহ্মুদ

বাঙালিদের মনে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনার স্ফুরণ ঘটানোর জন্য যে রাজনৈতিক উদ্যম প্রয়োজন

মুক্ত আলোচনা

স্বাধীনতার জন্মকথা : টাইমলাইন

সাইফুজ্জামান

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাসে অনন্য মহীমায় উৎকীর্ণ। বাঙালির বঞ্চনা-শোষণ আর সংগ্রামের বহুমাত্রিকতা